রয়টার্সের প্রতিবেদন
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সক্ষমতার উল্লেখযোগ্য কোনো হ্রাস ঘটেনি। গত বছরের গ্রীষ্মে ইরান একটি পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে যে সময় নিত, এখনো প্রায় একই সময় লাগবে। অথচ ২০২৫ সালের জুনে চালানো হামলার পর দাবি করা হয়েছিল, ইরানের এ কর্মসূচি অন্তত এক বছর পিছিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানকে পারমাণবিক বোমা তৈরির পথ থেকে বিরত রাখতে দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে। তবে হামলার পরও দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র মূলত প্রচলিত সামরিক ঘাঁটি ও শিল্প এলাকা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে ইসরাইল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তবুও ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অক্ষত রয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কার্যত অকার্যকর করতে হলে এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস করা অথবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া জরুরি। গত ৭ এপ্রিল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে সংঘাত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য এবং ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার কারণে উত্তেজনা এখনো তীব্র। বিশ্বে মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ জানিয়েছেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার মাধ্যমে ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেটিই ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের সংঘাত শুরুর আগেই মার্কিন গোয়েন্দারা ধারণা করেছিল, ইরান তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে সক্ষম। তবে জুনের হামলার পর এ সময়সীমা ৯ মাস থেকে এক বছরে পৌঁছেছে বলে অনুমান করা হয়।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নাতাঞ্জ, ফোরদো ও ইস্পাহানের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এখনো ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি। সংস্থাটির ধারণা, এই মজুতের অন্তত অর্ধেক ইসফাহানের একটি সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ টানেলে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে সেখানে পরিদর্শন কার্যক্রম স্থগিত থাকায় বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। আইএইএর মতে, এ পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরি করা সম্ভব।