হোম > বিশ্ব

শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার

বিবিসি

ছবি: রয়টার্স

প্রধান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে গতকাল বুধবার স্ত্রী ও চীনের ফার্স্ট লেডি পেং লি ইউয়ানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি।

স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটনের অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে শি জিনপিং ও পেং লি ইউয়ানকে বহনকারী উড়োজাহাজ অবতরণ করে। সেখানে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার স্ত্রী, মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।

এ সময় মার্কিন শিশুরা শি জিনপিং ও পেং লি ইউয়ানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। দুই পাশে লালগালিচা বিছানো হয়। সেখানে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সামরিক ব্যান্ড চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে। এ ছাড়া ২১ বার তোপধ্বনি এবং যুদ্ধবিমান উড়িয়ে তাদের অভিবাদন জানানো হয়।

ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ফার্স্ট লেডি পেং লি ইউয়ানকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি সারা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করা একটি সফর।

শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তার পদার্পণের মুহূর্তটিও মহান। তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে ফলপ্রসূ মতবিনিময় এবং দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করেন।

জবাবে লিখিত বক্তব্যে চীনা জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান শি জিনপিং। তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই মহান দেশ এবং দুই দেশের জনগণও মহান। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে। দুই দেশের স্বার্থও গভীরভাবে জড়িত।

শি জিনপিং বলেন, দুই দেশের অংশীদার হওয়া উচিত, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। চীনা জাতির মহান পুনরুদ্ধার এবং ‘আমেরিকাকে আবার মহান করা’—এই দুই লক্ষ্য পরস্পরের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। বরং এগুলো পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে, একে অপরকে এগিয়ে নিতে পারে এবং বিশ্বকে উপকৃত করতে পারে।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, চলতি বছরের মে মাসে ট্রাম্প চীন সফরের সময় দুই নেতা চীন-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। এই সমঝোতা ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

তিনি বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া। এমন একটি স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত, যেখানে সহযোগিতা হবে প্রধান ভিত্তি, প্রতিযোগিতা থাকবে সংযত, মতপার্থক্য থাকবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং শান্তির সম্ভাবনা থাকবে সুস্পষ্ট। এভাবেই নতুন যুগে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দুই বৃহৎ দেশের সঠিকভাবে সহাবস্থানের পথ তৈরি করা সম্ভব।

শি জিনপিং আরো বলেন, বিশ্ব এগিয়ে চলছে এবং সময়ও পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক যুক্তি বদলায়নি। দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের আন্তরিক আকাঙ্ক্ষাও বদলায়নি। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যাপক প্রত্যাশাও বদলায়নি।

চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এবং বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে গভীরভাবে মতবিনিময় করতে চান। একই সঙ্গে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীল সম্পর্কের বিষয়বস্তু আরো সমৃদ্ধ করা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিসর আরো বিস্তৃত করার প্রত্যাশা করেন তিনি।

শি জিনপিং জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলের মানুষের সঙ্গে ব্যাপক যোগাযোগ করা এবং বন্ধুত্ব আরো গভীর করতে তিনি আগ্রহী। দুই পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় তার এই সফর অবশ্যই ফলপ্রসূ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বাড়বে এবং বিশ্ব শান্তিতে নতুন আশার সঞ্চার হবে।

এএম

পাক-আফগান সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা, কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা নিহত

বাংলাদেশ নিয়ে ট্রাম্পের পোস্ট

সৌদির নিরাপত্তায় জরুরি বৈঠকে বসছে মক্কা জোট

গ্রেপ্তার আতঙ্কে জাতিসংঘে ভাষণ শেষ করেই দেশে ফিরলেন নেতানিয়াহু

সৌদি সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি হুথিদের

স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধ করল ইতালি

নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ, আটক শতাধিক

কঙ্গোতে নৌকা ডুবে ৪১ জনের মৃত্যু

ভারতে মুসলিম কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার খবর প্রকাশ, সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা

ন্যাটো সদস্য দেশে কয়েক মাসের মধ্যেই হামলা চালাতে পারে রাশিয়া: ডেনমার্ক