মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। শুক্রবার দিনের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যায়। তেলের সরবরাহ বাড়াতে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য উদ্যোগের প্রভাব পড়েছে বাজারে।
শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১২টা ১২ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ কমে ১০৫ ডলার ৫১ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৫৪ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ ডলার ৪৩ সেন্টে নেমে আসে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জরুরি মজুত থেকে ২ কোটি ব্যারেলের বেশি ডিজেল এবং গত মার্চে ছাড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া অবশিষ্ট তেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। সরবরাহের ওপর চাপ কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে তেলের পরিবহন ব্যয় কমাতে রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে তেল পরিবহন করেছে—এমন কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। ওই উদ্যোগের লক্ষ্য, রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো জাহাজ চলাচলের ব্যয় কমানো।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথিদের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। এসব ঘটনায় ওই অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বাজারে তেলের দাম কমলেও পরিস্থিতির ওপর বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।
এএম