হোম > বিশ্ব

ভেনেজুয়েলা থেকে ইরান: শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে মার্কিন অভিযান

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলা থেকে ইরান— দেশে দেশে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০১৯ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, শুধু স্নায়ুযুদ্ধের সময় (১৯৪৭-১৯৮৯) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশের বাইরে ক্ষমতার ভারসাম্যকে তার পক্ষে আনতে ৭২টি প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। এই পদক্ষেপের মধ্যে ৬৪টি ছিল ‘সিক্রেট সার্ভিস’ পরিচালিত গোপন অভিযান, যার সাফল্যের হার প্রায় ৪০ শতাংশ।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ১৯৫৩ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মিলে তৎকালীন ইরানি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেগকে উৎখাত করতে সফল হয়। ফলস্বরূপ ইরানের নতুন শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ক্রমবর্ধমানভাবে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুতুল’ শাসকে পরিণত হন এবং ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের সময় তাকে উৎখাত করা হয়। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠিত ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার কেন্দ্রবিন্দুতে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশে গোপন ও প্রকাশ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন অভিযান চালিয়েছে, তার মধ্যে একটি লিবিয়া।

লিবিয়া:

২০১১ সালে যখন আরব বসন্ত মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাজুড়ে পরিবর্তনের আশা জাগিয়ে তোলে, তখন লিবিয়াতেও দীর্ঘকালীন শাসক মোয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার অধীনে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এর সুযোগ নেয়। গাদ্দাফি বিরোধী তথাকথিত জাতীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের পক্ষ নেয় ওয়াশিংটন।

ন্যাটোর অপারেশন ইউনিফাইড প্রোটেক্টরের ছত্রছায়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য বিমান হামলা চালায়। অক্টোবরে একটি মার্কিন ড্রোন এবং একটি ফরাসি যুদ্ধবিমান গাদ্দাফির কনভয়ে আক্রমণ করে এবং পরে জাতীয় ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের যোদ্ধাদের হাতে তিনি নিহত হন।

প্রায় ১৫ বছর পরেও লিবিয়া রাজনৈতিকভাবে এখনো বিভক্ত এবং ব্যাপক অস্থিতিশীল।

ইরাক:

২০০৩ সালের ১ মে প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের পতনের কয়েক সপ্তাহ পরে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ ইরাক যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে রূপান্তরিত হতে সময় লাগবে। কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের জোট থাকবে। তারপর আমরা চলে যাব এবং আমরা একটি স্বাধীন ইরাক রেখে যাব।’

পরবর্তী দখলদারিত্বের সময়কাল শান্তি বা স্থিতিশীলতা বয়ে আনেনি।

আফগানিস্তান:

ইরাক যুদ্ধ জর্জ ডব্লিউ বুশের একমাত্র ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’ যুদ্ধ ছিল না। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার চার সপ্তাহ পর, মার্কিন সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে ‘অপারেশন এন্ডুরিং ফ্রিডম’ শুরু করে। তালেবান শাসন দ্রুত উৎখাত হলেও, নতুন মার্কিন-সমর্থিত সরকার সীমিত সময়ের জন্য তাদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়।

২০১৪ সালে জার্মান সহ আন্তর্জাতিক বাহিনী তাদের সেনা সংখ্যা কমিয়ে আনার পর, তালেবান গোষ্ঠী ধীরে ধীরে আবার নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে শুরু করে। তারা আক্রমণ চালিয়ে ঐক্য সরকারকে দৃশ্যত দুর্বল করে দেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার প্রথম মেয়াদের শেষ বছরে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে তালেবানের সঙ্গে একমত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০২১ সালে জো বাইডেনের অধীনে অবশিষ্ট মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরপরই, তালেবানরা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় এবং মার্কিন আক্রমণের আগে বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে আসে।

পানামা:

১৯৮০-এর দশকে পানামা ছিল স্বৈরশাসক ম্যানুয়েল নোরিয়েগার অধীনে। বছরের পর বছর সিআইএ-র বেতনভুক্ত থাকার পর, তিনি হয়ে পড়েন যুক্তরাষ্ট্রের বোঝা।

১৯৮৯ সালের মে মাসে, বিরোধী রাজনীতিবিদ গুইলারমো এন্দারা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন, কিন্তু নোরিয়েগা ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানান। ১৯৮৯ সা জুড়ে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকে। এরপর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ ডিসেম্বরে নোরিয়েগাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের জন্য ‘জাস্ট কজ’ সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন। ২০ ডিসেম্বর, এন্দারা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং দুই সপ্তাহ পরে, নোরিয়েগা আত্মসমর্পণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং পানামাতে বিভিন্ন কারাগারে সাজা ভোগ করেন এবং ২০১৭ সালে মারা যান।

গ্রানাডা:

১৯৭৯ সাল থেকে রাজ্য গ্রানাডা ক্রমশ সোভিয়েত ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে তার রাজনীতির সমন্বয় ঘটাতে থাকে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী মরিস বিশপ যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেন, তখন সামরিক ইউনিটগুলো তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে এবং হত্যা করে। এই পটভূমিতে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান বেশ কয়েকটি ক্যারিবীয় দেশের সহায়তায় ১৯৮৩ সালের ২৫ অক্টোবর গ্রানাডা আক্রমণ শুরু করেন। ব্রিটিশ সরকারের তীব্র বিরোধিতার বিরুদ্ধে এই অভিযান হয়।

ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র:

কয়েকটি অভ্যুত্থানের পর, ১৯৬৫ সালে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়। এক পর্যায়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন সেখানে আক্রমণ শুরু করেন। এর প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া, কিন্তু অনানুষ্ঠানিকভাবে এটি ছিল দেশটি যাতে ‘দ্বিতীয় কিউবা’ হতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ভেনেজুয়েলা:

সবশেষ সম্ভাব্য ‘শাসন পরিবর্তন’ অভিযানটি এত সম্প্রতি ঘটেছে যে চূড়ান্ত মূল্যায়ন এখনও সম্ভব হয়নি। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের নির্দেশ দেন। এরপর তাকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়।

সূত্র: ডয়েচে ভ্যালে

আরএ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকার পক্ষে টনি ব্লেয়ার, কড়া জবাব দিলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরাইল ও জর্ডানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি ইরানের

ইরানে প্রায় ১০ হাজার বেসরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত: রেড ক্রিসেন্ট

ইরানের নেতৃত্ব ও শক্তি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে: ট্রাম্প

ইসরাইলি হামলায় জ্বলছে ইরানের তেলের ট্যাংক, অ্যাসিড বৃষ্টির আশঙ্কা

ইরানে উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলার অভিযোগ

হরমুজ প্রণালিতে টাগবোট ডুবি, নিখোঁজ ৩ ইন্দোনেশীয় নাবিক

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত: ইরানি গণমাধ্যম

‘দায়িত্ব পালনকালে’ কুয়েতের ২ দমকল কর্মী নিহত

ইরান ইস্যুতে টনি ব্লেয়ারের মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী