অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় দুই বছরের বেশি সময় ধরে আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আইডিএফের বর্বর ও হিংস্র এ আগ্রাসনে পুরো উপত্যকাই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। গত বছরের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতি চালু হয়। তা সত্ত্বেও গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা দৃশ্যমান হচ্ছে না। বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশ ভূমি আইডিএফ দখল করে রেখেছে। এছাড়া নতুন করে আবার আগ্রাসন শুরুর পরিকল্পনা করছে ইসরাইলি বাহিনী।
রোববার ইসরাইলি আর্মি রেডিওর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস যোদ্ধাদের নিশ্চিহ্ন করার এখনই উপযুক্ত সময়। এজন্য নতুন করে যুদ্ধ শুরুর চাপ দিচ্ছে তারা।
এতে বলা হয়, ইতোমধ্যে অভিযানের পরিকল্পনা শেষ হয়েছে। এখন ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা চলছে। এদিকে গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে শক্তি জোরদারের জন্য দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন কমিয়েছে আইডিএফ।
এছাড়া গাজায় কথিত ‘হলুদ সীমারেখা’ (ইয়েলো লাইন) বিস্তার করে চলছে ইসরাইলি বাহিনী। চারপাশ থেকে গাজার ফিলিস্তিনিদের সংকীর্ণ স্থানে অবস্থান করতে বাধ্য করছে তারা।
আমেরিকার মধ্যস্থতায় গত বছরের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি হলেও প্রায় সাত মাসে অন্তত ৮৩২ বার তা লঙ্ঘন করেছে ইসরাইলি সেনারা। এছাড়া গাজায় দুর্দশাগ্রস্ত মানুষকে সহায়তার জন্য প্রতিদিন ৬০০ ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশের কথা থাকলেও ইসরাইলের বাধার কারণে ২০০-এর কম ট্রাক প্রবেশ করতে পারছে।
এর মধ্যে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মঙ্গলবারের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আগের ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় দুজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একজনের লাশ। এ নিয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে হামলায় মোট ৮৩৪ জন নিহত ও ২ হাজার ৩৬৫ জন আহত হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৭৬৮ জনের লাশ। সব মিলিয়ে দুই বছরের বেশি আগ্রাসনে গাজায় ৭২ হাজার ৬১৫ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৬৮ জন আহত হয়েছে।