হোম > বিশ্ব

স্বাধীনতার প্রশ্নে হারলেও কি টিকে থাকবে আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন

আলজাজিরা

শনিবার আলবার্টার এডমন্টনে প্রাদেশিক আইনসভার সামনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমাবেশ। ছবি: এএফপি

কানাডা থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন কোরি মরগান। তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টাকে স্বাধীন দেশ হিসেবে দেখতে চান তিনি। সোমবার প্রথমবারের মতো এ প্রশ্নে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন প্রদেশটির বাসিন্দারা। তবে গণভোটে স্বাধীনতার প্রস্তাব নাকচ হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন মরগান।

আলজাজিরাকে মরগান বলেন, ‘আমি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে সম্মান করব। তারা যদি মনে করেন, এখনই ওই পথে যাওয়ার সময় আসেনি, তাহলে সেটাই মেনে নেব। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি থেমে যাব।’

মরগান ‘পাথওয়ে টু ইনডিপেনডেন্স’ নামের একটি অধিকার আদায়ের সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। তার মতো দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের প্রচেষ্টায় একসময় প্রান্তিক বলে বিবেচিত স্বাধীনতার দাবি এখন গণভোটের ব্যালটে জায়গা করে নিয়েছে।

সোমবারের প্রাদেশিক গণভোটে আলবার্টার বাসিন্দাদের কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে স্বাধীনতার প্রশ্নে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত কি না। জরিপ বলছে, স্বাধীনতার পক্ষে থাকা পক্ষের জয়ের সম্ভাবনা কম। প্রদেশটির প্রতি পাঁচজনের চারজনই কানাডার অংশ হিসেবে থাকতে চান। তবে মরগানের নজর বাকি পাঁচজনের একজনের দিকে।

তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন থেমে যাওয়ার নয়।’

তবে গণভোটের ফল আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন এবং কানাডার সামগ্রিক রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

গণভোটে কী সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভোটারদের

সোমবারের ব্যালটে আলবার্টার বাসিন্দাদের সামনে দুটি বিকল্প রয়েছে। প্রথমটি হলো কানাডার অংশ হিসেবে থাকা। দ্বিতীয়টি হলো ভবিষ্যতে কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা।

দ্বিতীয় বিকল্পের পক্ষে ভোট পড়লেই আলবার্টা স্বাধীন রাষ্ট্র হয়ে যাবে না। কোনো প্রদেশ কানাডা থেকে আলাদা হতে চাইলে প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকার, অন্য প্রদেশ এবং আলবার্টা ও এর আশপাশে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে জটিল আলোচনা করতে হবে।

বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের কয়েকজন সংগঠক এই পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের গণভোটের পক্ষে ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন। তাদের যুক্তি, কেউ স্বাধীনতা না চাইলেও কেন্দ্রীয় সরকারকে নিজেদের অবস্থান জানাতে এই ভোট ব্যবহার করতে পারেন।

আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জ্যারেড ওয়েসলি আলজাজিরাকে বলেন, ‘কৌশলী বিচ্ছিন্নতাবাদী ও তাদের নেতারা এই অস্পষ্টতা এবং তুলনামূলক সহজ শর্তকে কাজে লাগাচ্ছেন।

তারা মানুষকে স্বাধীনতার পক্ষে নয়, বরং অটোয়াকে এই বার্তা দিতে ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন যে আলবার্টার মানুষের কথা শুনতে হবে।’

তার মতে, এই বার্তা কিছু ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা উদ্যোগ ‘ভিউপয়েন্ট আলবার্টা’র সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, গণভোটের পক্ষে থাকা ভোটারদের দুই-তৃতীয়াংশ কৌশলগত কারণে এ অবস্থান নিয়েছেন। তাদের উদ্দেশ্য অটোয়া সরকারকে নিজেদের অসন্তোষ জানানো।

মরগান এ ধরনের ভোটারদের বলেন ‘অনিচ্ছুক বিচ্ছিন্নতাবাদী’।

তার ভাষায়, তারা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন, যখন আর ধৈর্য ধরতে পারছেন না। তারা চান, কেন্দ্রীয় সরকার তাদের কথা শুনুক।

তবে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ভোটারদের এ কৌশল থেকে সতর্ক করেছেন। বৃহস্পতিবার ক্যালগারিতে কানাডার অখণ্ডতার পক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে শুধু ‘বার্তা পাঠানো’ যাবে—এমন ধারণায় যেন কেউ বিভ্রান্ত না হন।

কার্নির ভাষায়, ‘এটা জুয়া খেলা নয়। কানাডার বিপক্ষে ভোট দেওয়া একটি বিপজ্জনক ধাপ্পাবাজি, যা বছরের পর বছর গভীর বিভাজন ও বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করবে।’

কেন বাড়ছে বিচ্ছিন্নতার দাবি

আলবার্টার স্বাধীনতার প্রশ্নে এই গণভোটের পেছনে রয়েছে কয়েক দশকের অসন্তোষ। প্রদেশটিতে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভিযোগ, আলবার্টা থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বিপুল অর্থ নিয়ে যায়। সেই অর্থ দিয়ে দেশের অন্য অঞ্চলগুলোকে সহায়তা করা হলেও আলবার্টা বিনিময়ে যথেষ্ট সুবিধা পায় না।

কেন্দ্রীয় সরকারের জ্বালানি নীতি নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে। তাদের মতে, এসব নীতি আলবার্টার তেলশিল্পের সম্ভাবনা সীমিত করছে।

মরগানের মতে, এই ক্ষোভের শিকড় ১৯৮০-এর দশকে। ওই সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডোর সরকার ‘ন্যাশনাল এনার্জি প্রোগ্রাম’ চালু করেছিল। পিয়েরে ট্রুডো সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বাবা।

ওই কর্মসূচির আওতায় মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর এবং মালিকানাসংক্রান্ত নিয়মের মাধ্যমে কানাডায় জ্বালানির দাম সাশ্রয়ী রাখার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে আলবার্টার রাজস্বের আরও বেশি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এই নীতি পরে কানাডার পশ্চিমাঞ্চলে ‘ওয়েস্টার্ন এলিয়েনেশন’ বা পশ্চিমাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকে পরিণত হয়। কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর মানুষের মধ্যে নিজেদের বঞ্চিত মনে করার যে প্রবণতা, তা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

জাস্টিন ট্রুডো ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও এই উত্তেজনা আবার বাড়ে। তার সরকারের জলবায়ুনীতি, বিশেষ করে জাতীয় কার্বন কর এবং নির্গমন সীমিত করার উদ্যোগ, আলবার্টার তেল খাতের ক্ষোভের কারণ হয়।

মরগান বলেন, ‘আমরা ৫০ বছর ধরে একই বিষয় নিয়ে লড়াই করছি।’

এরপর আসে কোভিড-১৯ মহামারি। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহামারির সময় স্বাস্থ্যবিধি ও বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ নতুন প্রজন্মের রক্ষণশীল কর্মীদের সংগঠিত করে। এতে আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন নতুন গতি পায়।

জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ২০২৫ সালে লিবারেল পার্টির নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান জাস্টিন ট্রুডো। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি।

গত বছর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর চাপের মুখে আলবার্টার মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথের সরকার গণভোট আয়োজনের নিয়ম সহজ করে। এর ফলে প্রদেশটির স্বাধীনতার প্রশ্ন রাজনৈতিক আলোচনায় আরো গুরুত্ব পায়।

অধ্যাপক ওয়েসলির মতে, এই গণভোটের পেছনে স্বাধীনতার পক্ষে জনসমর্থন বেড়ে যাওয়ার চেয়ে স্মিথের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীণ চাপ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দলটির সদস্যদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার পক্ষে সমর্থন সাধারণ আলবার্টাবাসীর তুলনায় বেশি।

ওয়েসলি বলেন, ‘আমরা গণভোট করছি, কারণ ড্যানিয়েল স্মিথ এটি চান। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামনে প্রশ্নটি তুলে দিয়ে তিনি দলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছেন।’

স্মিথ গণভোটের আয়োজন করলেও স্বাধীনতার উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। ১৪ অক্টোবর তিনি জানান, কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে স্মিথ বলেন, ‘আমার মতে, এখনই আমাদের দেশ নিয়ে আশা ছেড়ে দেওয়ার সময় নয়। আমরা যখন এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছি এবং এত দূর এগিয়েছি, তখন আশা ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না।’

পরাজয় কি আন্দোলনকে আরো শক্তিশালী করবে

স্মিথের এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট গণভোটের তুলনা করেছেন অনেকে। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কার্নিও রয়েছেন।

ওই সময় যুক্তরাজ্যের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা না-থাকার প্রশ্নে গণভোট আয়োজন করেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল নিজ দলের কনজারভেটিভ পার্টিকে বিভক্ত করে রাখা বিতর্কের অবসান ঘটানো। কিন্তু ভোটাররা শেষ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দেন। এর পর দেশটিতে কয়েক বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলে।

তবে আলবার্টায় জন্ম নেওয়া এবং বর্তমানে আয়ারল্যান্ডে বসবাসকারী রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ইয়ান কুপারের মতে, তুলনার জন্য যুক্তরাজ্যের ১৯৭৫ সালের গণভোটটি বেশি প্রাসঙ্গিক। ওই গণভোটে ব্রিটিশ ভোটারদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৎকালীন ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিল।

কুপারের মতে, সেই ফল ইউরোপীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষের কর্মীদের নিরুৎসাহিত করতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিটের পক্ষে থাকা কর্মীরা তখন অবশ্য কেউ এই নাম ব্যবহার করত না। তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়েছিলেন। তাদের ২৫ বছর লেগেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সফল হয়েছেন।’

কুপারের ধারণা, আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব বড় ব্যবধানে পরাজিত হলেও আন্দোলনকারীরা একইভাবে দীর্ঘমেয়াদে প্রচার চালিয়ে যেতে পারেন। এর মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের গুরুত্ব ও জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, তারা সত্যিই নিজেদের বিশ্বাসের জায়গা থেকে কাজ করছেন। তাদের আন্দোলন মূলত আদর্শনির্ভর।’

গণভোটে স্বাধীনতার প্রস্তাব নাকচ হলে আন্দোলনকারীদের নিজেদের ব্যর্থতার কারণ খতিয়ে দেখতে হবে বলে মনে করেন মরগান। ভবিষ্যতে স্বাধীনতার পক্ষে আরও শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরার জন্য তাদের কাজ করতে হবে।

তবে কানাডার ব্যবস্থার মধ্যে থেকেই অসন্তোষ দূর করা সম্ভব, কিংবা অপেক্ষাকৃত সহানুভূতিশীল কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচিত হলে সমস্যার সমাধান হবে—এমনটা মনে করেন না তিনি।

আলবার্টায় বেড়ে ওঠা প্রধানমন্ত্রী কার্নি বৃহস্পতিবারের সমাবেশে স্বীকার করেন, প্রদেশটির অনেক বাসিন্দার হতাশার বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। তার ভাষায়, অটোয়া সরকার আলবার্টার মানুষকে এমন অনুভূতি দিয়েছে যে তাদের সম্পদ যেন তাদের নিজেদের নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে আলবার্টার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন কার্নি। এ লক্ষ্যে কানাডার পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন নির্মাণ এবং বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

অটোয়ার ওপর চাপ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে যারা বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে আন্দোলনটি কার্যকর হয়েছে বলে স্বীকার করেন মরগান।

তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে যতটা আন্তরিকতা পেয়েছি, আগের ১০ বছরে তা পাইনি।’

তবে মরগানের মতো স্বাধীনতার প্রশ্নে অনড় ব্যক্তিদের জন্য সমস্যা থেকেই গেছে। তার ভাষায়, ‘ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীরা আসেন, চলে যান। আরেকটি নির্বাচনের পরই আবার এমন কেউ ক্ষমতায় আসতে পারেন, যিনি আমাদের প্রতি বৈরী মনোভাব পোষণ করবেন।’

অন্য নয়টি প্রশ্নও কেন গুরুত্বপূর্ণ

সোমবারের গণভোটে স্বাধীনতার প্রশ্নটি মোট ১০টি প্রশ্নের একটি। অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্থায়ী বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ সীমিত করা এবং আলবার্টার নিজস্ব বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা নিশ্চিত করা।

স্মিথ অন্য নয়টি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে বাসিন্দাদের উৎসাহিত করেছেন। তার যুক্তি, এসব প্রস্তাবের পক্ষে শক্তিশালী জনসমর্থন পেলে অটোয়ার সঙ্গে আলোচনায় আলবার্টার দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়বে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মিথ বলেন, ‘আমি যেসব আলবার্টাবাসীর সঙ্গে কথা বলি, তাদের অনেকেই অটোয়াকে একটি বার্তা দিতে চান। আমার পরামর্শ, বাকি ৯টি প্রশ্নে আমাদের শক্তিশালী জনসমর্থন দিয়ে সেই বার্তা দেওয়া সবচেয়ে ভালো উপায়।’

কুপারের মতে, আলবার্টাবাসী যদি অন্য প্রস্তাবগুলোর পক্ষে ভোট দেন, কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার কোনো ছাড় দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নতুন যুক্তি পাবেন। তারা তখন বলতে পারবেন, বর্তমান ব্যবস্থার মধ্যে থেকে অর্থবহ পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

কুপার বলেন, ‘অন্য নয়টি প্রশ্নের মধ্যে ভবিষ্যতের আরেকটি গণভোটের বীজ লুকিয়ে আছে।’

কোন বিষয়গুলো টিকিয়ে রাখতে পারে আন্দোলন

গণভোটের পর বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

অধ্যাপক ওয়েসলির মতে, বিভিন্ন কারণে মানুষ এই আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন। স্বাধীনতা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নয়—এমন ধারণা জোরালো হলে এসব কর্মীকে একসঙ্গে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। তখন তারা অভিবাসনের মতো অন্য রক্ষণশীল ইস্যুর দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।

কয়েকজন বিশেষজ্ঞের প্রশ্ন, আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারবে কি না। তাদের মতে, কুইবেকের আন্দোলনের সঙ্গে এর মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। কুইবেকের আন্দোলন অর্থনৈতিক অসন্তোষের পাশাপাশি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপরও দাঁড়িয়ে আছে। অন্যদিকে আলবার্টার আন্দোলনে অর্থনৈতিক অসন্তোষই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।

মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ বসবাসের প্রদেশ কুইবেকে নির্বাচনে জয় পেয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী দল পার্টি কুইবেকোয়া। দলটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর স্বাধীনতার প্রশ্নে তৃতীয় গণভোট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে মরগানের যুক্তি, আলবার্টারও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে উন্নত জীবনের আশায় মানুষ এই প্রদেশে এসেছেন। তাদের জীবনযাপন ও মানসিকতা থেকেই আলাদা এক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

মরগান বলেন, ‘এখানে যারা আসেন, তাদের অনেকেই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে বিশ্বাসী। তারা নিজের চেষ্টায় সফল হতে চান, আবার ব্যর্থ হলেও তার দায়িত্ব নিজেরাই নিতে চান।’

তিনি আরো বলেন, ‘এভাবেও একটি স্বতন্ত্র সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। সেটি হয়তো কুইবেকের মতো দীর্ঘদিনের নয়, যেখানে ভাষাগত পার্থক্য রয়েছে, কিংবা অন্য কোনো দেশের মতো নয়।’

আলবার্টাবাসী বিচ্ছিন্নতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও মরগান মনে করেন, আন্দোলনটি অন্তত একটি ক্ষেত্রে সফল হয়েছে। এটি কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রদেশটির অসন্তোষকে আরো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে।

তিনি বলেন, ‘আশা করি, কিছু মানুষ বুঝতে পারবেন, একসময় না একসময় পরিবর্তন আনতেই হবে। গণভোটের ফল যা-ই হোক, অন্তত এটি অনেকের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে থাকবে।’

এএম

ডেটা সেন্টারই কেন সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে

গাজায় তীব্র খাদ্যসংকটে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি: ডব্লিউএফপি

নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ঘোষণা দিতে যাচ্ছে কাতার

ইউক্রেন যুদ্ধে ‘স্টারশিল্ড’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

জলদস্যু দমনের অভিযানে বিপাকে সোমালিয়ার জেলেরা

ফ্রান্সে সহিংস বিক্ষোভের জেরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান

ইসরাইলের নির্বাচনে ‘কিং মেকার’ হতে পারে আরব দলগুলো

চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪.৫ শতাংশ

বদলে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো, চালু হচ্ছে এআই বিভাগ

আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ, গুঁড়িয়ে দিল ১০ মসজিদ