ইরান থেকে আফগান অভিবাসীদের ফেরত পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থার বরাত দিয়ে সোমবার জিও নিউজ জানিয়েছে, জুনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চার লাখ ৫০ হাজার আফগানকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ইরান।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে সব মিলিয়ে ৯ লাখ ৬ হাজার ৩২৬ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ফিরে আসতে রোববার (৬ জুলাই) পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল ইরান। হেরাতের স্থানীয় কর্মকর্তারা টোলো নিউজকে বলছেন, গত দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে ইসলাম কালা সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে তিন লাখের বেশি আফগান অভিবাসী দেশে ফিরে এসেছেন।
আফগানিস্তানের হেরাতের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রধান আহমাদুল্লাহ মুত্তাকি বলেছেন, ‘বিপুল সংখ্যক অভিবাসী প্রত্যাবর্তন শুরু হওয়ার পর থেকে, ইসলাম কালা সীমান্ত দিয়ে তিন লাখের বেশি অভিবাসী আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্বেচ্ছায় এসেছেন আবার কাউকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’
ইরান থেকে ফিরে আসা কয়েকজন জানিয়েছেন, তেহরানে ইসরাইলের হামলার পর, আফগান অভিবাসীদের ওপর চাপ এবং সহিংস আচরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশে ফিরে আসা জামারি বলেন, ‘সেখানকার পরিস্থিতি খুবই কঠোর এবং আমাদের অভিযোগের কোনো সুরাহা করা হয়নি।’
আতিকুল্লাহ আরো জানিয়েছেন, ‘ইরানে আফগানদের গ্রেপ্তার ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। সব জায়গায় চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে।’
আফগানিস্তান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিবাসীরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, সেগুলো ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে কূটনৈতিকভাবে উত্থাপন করা হবে।
তারা জানান, ইরানি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন আফগান অভিবাসীদের সাথে ইসলামী নীতি এবং সুপ্রতিবেশীর আদর্শ অনুযায়ী আচরণ করে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গণহারে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ঘটনা আফগানিস্তানকে আবারো অস্থিতিশীল করতে পারে।
ইরানে কমপক্ষে চল্লিশ লাখ আফগান অভিবাসী ও শরণার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে অনেকে কয়েক দশক ধরে ইরানে বসবাস করছেন।
আরএ