প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশের ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা’ তেহরানকে সহযোগিতা করবে, তাদের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রাম্পের এই হুমকিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ওয়াশিংটন এমন হুমকি কার্যকর করতে পারে কিনা?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো দেশ পুরোপুরি অন্য দেশগুলোর ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বা সর্বাত্মক অবরোধ আরোপ করতে পারে না। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা পদক্ষেপ মূলত মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
আন্তর্জাতিক ও বাণিজ্য আইন বিশেষজ্ঞ শান্তনু সিং বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো দেশই ইরান অথবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে—সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতা রাখে না।
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি ইন কাতারের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ‘অর্থনৈতিক পরিণতি’ কার্যকর করা ট্রাম্পের জন্য খুবই কঠিন হবে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, অতীতের নিষেধাজ্ঞাগুলোও ইরানের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করতে পারেনি। গত বছর ইরান থেকে সমুদ্রপথে রপ্তানি হওয়া তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি কিনেছে চীন। এসব তেল পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সক্ষম তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন নৌবহর ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে চীন তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বাধ্য করার বিরোধিতা করেছে। তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরাকও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার মধ্যেই গত সপ্তাহে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানান, দেশটি ব্রিকস নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে যোগ দিতে যাচ্ছে। এই ব্যাংকে যোগ দিলে ইরান আন্তর্জাতিক অর্থায়নের আরো সুযোগ পাবে এবং অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।
তবে চলতি সপ্তাহে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ইরানের ভূখণ্ড থেকে নিজেদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার অভিযোগ তুলে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। বিশ্লেষকরা এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, ইরানের অর্থনীতির জন্য আমিরাতের বাণিজ্যিক ও আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
আরএ