সুদানের করদোফানের সুদ্রি এলাকায় এক বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত এবং অনেক মানুষ আহত হয়েছেন বলে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’ জানিয়েছে।
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রোববার বাজারের ব্যস্ত সময়ে হামলাটি ঘটে এবং এতে মানবিক পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়েছে। তারা সতর্ক করে বলেছেন, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বসতিপূর্ণ এলাকায় বারবার ড্রোন হামলা বেসামরিক জীবনের প্রতি গুরুতর অবহেলা এবং প্রদেশের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সব ধরনের ড্রোন হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানাই।’ ইমার্জেন্সি লইয়ার্স দাবি করেছে, হামলাটি সেনাবাহিনীর ড্রোন থেকে হয়েছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই সামরিক কর্মকর্তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, সেনাবাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় না এবং এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এর ঠিক এক সপ্তাহ আগে রাহাদ শহরের কাছে আরেকটি ড্রোন হামলায় বাস্তুচ্যুত পরিবার বহনকারী একটি গাড়িতে আঘাত হানে, এতে আটজন শিশুসহ অন্তত ২৪ জন নিহত হন। এর আগের দিন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) একটি ত্রাণবাহী বহরও হামলার শিকার হয়।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের সেনাবাহিনী ও র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যা দেশজুড়ে যুদ্ধে রূপ নেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে চলমান লড়াই ও দুর্গম এলাকায় পরিস্থিতির কারণে প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সহায়তা সংস্থা মনে করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার করদোফান অঞ্চলকে ‘অস্থির এবং সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অক্টোবরের শেষ দিকে দারফুরে আরএসএফের অভিযানের সময় মাত্র তিন দিনে ৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যা যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধের আকার ধারণ করতে পারে।
এসআর