রয়টার্সের প্রতিবেদন
মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাব্য অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিকল্পনার সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা জানান যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার নির্দেশ দিলে অভিযান শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
এর আগে বহুবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। তবে হামলার আশঙ্কার মধ্যেই তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকেরা আলোচনা করেছেন।
একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ধারাবাহিক অভিযানে মার্কিন সেনাবাহিনী কেবল পারমাণবিক অবকাঠামো নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোতেও আঘাত হানতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট বিবরণ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযানে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি হবে। কারণ ইরানের কাছে ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল ভান্ডার রয়েছে। প্রতিশোধমূলক ইরানি হামলা আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেবে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড রণতরিটি মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আরবসাগরে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন অবস্থান করছে। ফোর্ড মোতায়েনের পর ওই অঞ্চলে দুটি শক্তিশালী রণতরি এবং তাদের সহযোগী যুদ্ধজাহাজ একসাথে অবস্থান করবে।
যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব না হয়, তাহলে ইরানের ওপর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প খুবই মর্মান্তিক হবে।
এদিকে, হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আরো বিস্তৃত যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হবে। জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
আরএ