মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নবগঠিত শান্তি বোর্ডের কার্যকারিতা ও লক্ষ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও নতুন এই বোর্ডের সঙ্গে কাজ করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা।
শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় নেতাদের এক শীর্ষ সম্মেলন শেষে আন্তোনিও কস্তা বলেন, ‘বোর্ড অব পিস এর সনদে উল্লিখিত বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে এর কাজের পরিধি, পরিচালনা পদ্ধতি ও জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে এটি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা গাজা উপত্যকার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এক্ষেত্রে বোর্ড অব পিস একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।’
এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে দেশগুলোকে ১০০ কোটি ডলার গুণতে হবে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মূলত গাজা পুনর্গঠনের তদারকি করার কথা থাকলেও, এই বোর্ডের সনদে এর ক্ষমতা কেবল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সংস্থাটি বিশ্বমঞ্চে জাতিসংঘের বিকল্প বা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হতে চাইছে।
শীর্ষ সম্মেলন শেষে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের জানান, তার দেশ এই সংস্থায় যোগ দেয়ার আমন্ত্রণকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোস অবকাশ কেন্দ্রে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অনুষ্ঠানে এই ‘বোর্ড অব পিস’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেখানে ১৯টি দেশের নেতা ও প্রতিনিধিরা এর সনদে স্বাক্ষর করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত ফ্রান্স ও বৃটেনও এই বোর্ড নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করায় উদ্বেগ জানিয়েছে লন্ডন।
অন্যদিকে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমান রূপরেখায় এই বোর্ড তাদের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার ও বিশেষ করে জাতিসংঘের সদস্য পদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সূত্র: বাসস