২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরেইলে আটক অবস্থায় কমপক্ষে ৯৮ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মৃত্যু হয়েছে, যার প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস ইসরাইল (পিএইচআরআই)।
সোমবার মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে পিএইচআরআই-এর তথ্য থেকে জানা গেছে, আটক অবস্থায় মারা যাওয়া বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক এবং তাদের উপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে শারীরিক নির্যাতন, চিকিৎসা অবহেলা, অপুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৯৮ জনের মধ্যে ৫২ জনের মৃত্যু সামরিক হেফাজতে হয়েছে, যাদের প্রত্যেকেই গাজা উপত্যকার বাসিন্দা। এছাড়া ইসরাইলের প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) হেফাজতে মারা গেছেন ৪৬ জন। যাদের মধ্যে ১৭ জন গাজা উপত্যকার, ২৬ জন পশ্চিম তীরের এবং অন্যরা ফিলিস্তিনি নাগরিক বা ইসরাইলের বাসিন্দা।
পিএইচআরআই এর বন্দি ও আটক বিভাগের পরিচালক নাজি আব্বাস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, যদিও সংস্থাটি আগের সংখ্যার চেয়ে বেশি মৃত্যু রিপোর্ট করছে, তবুও এটিই পূর্ণাঙ্গ চিত্র নয়। আমরা নিশ্চিত যে এখনও এমন কিছু মানুষ আছে যারা আটক অবস্থায় মারা গেছে যাদের সম্পর্কে আমরা জানি না।’
পিএইচআরআই ফরেনসিক রিপোর্ট, পেশাদার সাক্ষ্য, প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ, বন্দীদের আত্মীয়স্বজনের বক্তব্য, এছাড়া সরকারী তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে হেফাজতে মৃত্যু এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ গাজায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের প্রথম আট মাসের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেছে। সেই সময়ের জন্য, তথ্যে উল্লেখযোগ্য মৃত্যুর হার দেখানো হয়েছে - গড়ে প্রতি চার দিনে একজনের মৃত্যু।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী সর্বশেষ ২০২৪ সালের মে মাসে মৃত্যুর সংখ্যা আপডেট করেছিল এবং আইপিএস সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে মাত্র একটি মৃত্যুর রেকর্ড করেছে। তারপর থেকে, পিএইচআরআই গবেষকরা হেফাজতে মারা যাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দীদের আরো অতিরিক্ত ৩৫টি ঘটনা সনাক্ত করেছেন, যা পরবর্তীতে ইসরাইলের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
তবে, গাজায় এখনো শত শত ফিলিস্তিনি নিখোঁজ থাকায় সংস্থাটি অনুমান করছে হেফাজতে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা অনেক বেশি হবে।