হংকং শহরে একাধিক বহুতল ভবনে আগুনের ঘটনায় নিহতদের স্মরণে শনিবার থেকে তিন দিনের সরকারি শোক পালন শুরু হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে শুরু হওয়া আগুন টানা ৪০ ঘণ্টারও বেশি জ্বলেছে। আর এতে ১২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, দুর্ঘটনায় এখনো প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ রয়েছে। ১৯৪৮ সালের পর এটি হংকংয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ আগুনের দুর্ঘটনা।
স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হংকংয়ের শোক পালনের দৃশ্যগুলো ছিলো খুবই হৃদয় বিদয়াক। শনিবার সকালে হংকংয়ের নেতা জন লি, অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বেসামরিক কর্মচারীরা, সবাই কালো পোশাক পরে, কেন্দ্রীয় সরকারি অফিসের বাইরে তিন মিনিট নীরবতা পালন করেন। এসময় দেশটির পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
শহরজুড়ে শোকপত্রে স্বাক্ষরের জন্য বিভিন্ন কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখনো ৮৯টি লাশ শনাক্ত করা যায়নি এবং বহু আহত হাসপাতালে রয়েছেন—১১ জনের অবস্থা সংকটজনক।
তদন্তে দেখা গেছে, নিচের তলার সুরক্ষা নেটিংয়ে সৃষ্ট একটি স্ফুলিঙ্গ অত্যন্ত দাহ্য ফোম বোর্ড ও বাঁশের স্ক্যাফোল্ডিংয়ে আগুন লাগায়, যা ১৫ মিনিটের মধ্যে আটটির মধ্যে সাতটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আটটি ব্লকের অ্যালার্ম সিস্টেমই বিকল ছিল।
অন্যদিকে ভয়াবহ ট্র্যাজেডি সম্পর্কে এক বিবৃতিতে ব্রিটেনের রাজা চার্লস জানিয়েছেন, ‘যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং যারা এখন শোক ও অনিশ্চয়তার সাথে বসবাস করছেন, তাদের সবার প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।’
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ৮০০ বাস্তুচ্যুত বাসিন্দার জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, আরও ৭২০ জন আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটিয়েছেন। এলাকাজুড়ে বিশাল স্বেচ্ছাসেবী ত্রাণ কার্যক্রম গড়ে উঠেছে।
এর আগে ১৯৪৮ সালে হংকংয়ের রেকর্ডে থাকা দ্বিতীয় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭৬ জন নিহত হন এবং এটি একটি পাঁচ তলা গুদামে নিচতলায় বিস্ফোরণের ফলে ঘটে। সবচেয়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে ১৯১৮ সালে হ্যাপি ভ্যালি রেসকোর্সে, যেখানে ৬০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়।
সূত্র: বিবিসি।