সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে নেপাল ও ভারতের মধ্যে। এবার হিমালয় পর্বতমালায় বিরোধপূর্ণ এক স্থান দিয়ে নয়াদিল্লির তীর্থযাত্রার ঘোষণায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কাঠমান্ডু।
বৃহস্পতিবার ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চীন-ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে আবার তীর্থযাত্রা শুরু হবে। ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে বন্ধ থাকার পর চীনের সঙ্গে সম্মতিক্রমে চলতি বছর আবার তা চালু করা হচ্ছে।
ভারতের পক্ষ থেকে এ ঘোষণায় প্রতিবাদ জানিয়েছে নেপাল। রোববার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিবাদলিপিতে জানানো হয়, ১৮১৬ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকের সঙ্গে নেপাল রাজার স্বাক্ষরিত সুগলি চুক্তি অনুযায়ী এই স্থান নেপালের ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে, লিপুলেখ, লিমপিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চল নেপালের অন্তর্ভুক্ত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চীনের অধিভুক্ত তিব্বতের কৈলাশ পর্বত ও মানসরোবর লেকে তীর্থযাত্রা করতে ১৯৫৪ থেকে লিপুলেখ গিরিপথ ব্যবহার করছে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন ও বন ধর্মানুসারী পুণ্যার্থীরা। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ বিষয়ে জানান, ‘এটি নতুন কোনো বিষয় নয়। ভারত ধারাবাহিকভাবেই অবস্থান জানিয়ে আসছে, এ ধরনের দাবির কোনো যৌক্তিকতা নেই বা এর পেছনে কোনো ঐতিহাসিক প্রমাণও নেই। ভূখণ্ড বাড়ানোর এই একক কৃত্রিম দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।’
ভারতের পরিকল্পনা অনুসারে চলতি বছর তীর্থযাত্রায় দেশটির উত্তরাখণ্ড প্রদেশ হয়ে লিপুলেখ গিরিপথ দিয়ে চীনের তিব্বতে যাবেন ৫০০ হিন্দু তীর্থযাত্রী। অন্যদিকে ভিন্ন পথে সিকিম রাজ্য দিয়ে আরো তীর্থযাত্রী তিব্বতে যাবেন।