হোম > বিশ্ব

ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ট্রাম্প ও উপদেষ্টাদের ভুল হিসাব

নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানে হামলার চিন্তাভাবনা করছিলেন, যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কা ছিল না ওয়াশিংটন প্রশাসনের। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এক সাক্ষাৎকারে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, যুদ্ধ নিয়ে তার কোনো শঙ্কা নেই। তিনি বলেন, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং জ্বালানির বাজারে সংকট তৈরির আশঙ্কা নেই।

ট্রাম্পের অন্য উপদেষ্টারাও ব্যক্তিগতভাবে এমন ধারণাই পোষণ করতেন। ইরান যে দ্বিতীয়বারের আগ্রাসনে বিশ্বের ২০ ভাগ তেল সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে আঘাতের পথ বেছে নেবে, তা তাদের ধারণাতেই ছিল না।

এ ভুল হিসাবের চিত্র বর্তমানে বাস্তব হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক তেল ট্যাঙ্কারে ইরান হামলার হুমকি দিয়েছে। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এ পথ দিয়েই পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর রপ্তানি করা তেল সরবরাহ হয়। ইরানের হামলার হুমকিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল সরবরাহকারী জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর জেরে তেলের দাম বেড়ে গেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পথ খুঁজতে ট্রাম্প প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে।

হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে এভাবে আঘাত করবে, তা ধারণা করতে পারেননি ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা। আগ্রাসনের জবাবে ইরানের হামলার বিষয়ে হিসাবনিকাশ তাদের ভুল হয়েছে। গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল, তার চেয়ে এবার সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে আরো প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক কায়দায় পাল্টা হামলা চালাচ্ছে দেশটি। ইসরাইলে হামলার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি ও আরব দেশগুলোর প্রধান প্রধান শহরে মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে ব্যাপক আক্রমণ করছে তেহরান।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমেরিকার কর্মকর্তাদেরও তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দূতাবাসগুলো থেকে লোকজন সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে জ্বালানির দাম কমানোর সম্ভাব্য নীতিমালা তৈরির মতো পদক্ষেপ নিতে হয়েছে ওয়াশিংটনকে।

মঙ্গলবার ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্যদের একটি গোপন ব্রিফিং দেন। ব্রিফিং শেষে কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস্টোফার এস মার্ফি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি মোকাবিলার কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। কীভাবে এটিকে নিরাপদভাবে আবার খুলে দেওয়া যায় তাও তারা জানেন না। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেও কিছু কর্মকর্তা যুদ্ধ শেষ করার জন্য স্পষ্ট কৌশলের অভাব নিয়ে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছেন। তবে তারা সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছে সেই হতাশা প্রকাশ করতে সতর্ক থাকছেন, কারণ ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন যে সামরিক অভিযান পুরোপুরি সফল।

ইরান আগ্রাসনে ট্রাম্পের সর্বোচ্চ পর্যায়ের লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে ইরানকে এমন একজন নেতা নিয়োগ দিতে বাধ্য করা, যিনি তার নির্দেশ মেনে চলবেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তুলনামূলকভাবে সীমিত কৌশলগত লক্ষ্য তুলে ধরেছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দ্রুত যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ তৈরি করতে পারে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রশাসনের একটি ‘দৃঢ় পরিকল্পনা’ ছিল এবং যুদ্ধ শেষ হলে তেলের দাম কমে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘তেলের বাজারে ইরানি শাসকগোষ্ঠীর ইচ্ছাকৃত বিঘ্ন সাময়িক। আমেরিকা ও বিশ্বের জন্য যে সন্ত্রাসী হুমকি তারা তৈরি করেছে তা নির্মূল করার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য এটি প্রয়োজনীয়।’

নোবেল পুরস্কারে আর আগ্রহী নন ট্রাম্প

সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমেছে ভারতীয় রুপির দাম

ইরাকে মার্কিন বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর

ওমানে ড্রোন বিধ্বস্ত, দুই বিদেশি নাগরিক নিহত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেঁচে থাকলেও গুরুতর আহত: ট্রাম্প

তুরস্কের ইনসিরলিক বিমান ঘাঁটিতে সাইরেনের শব্দ

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলা করা দুঃস্বপ্ন

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার হুমকি নেতানিয়াহুর

ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে যা বললেন মার্কিন সিনেটর

ইরান আর আগের মতো নেই: নেতানিয়াহু