বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ অর্থাৎ প্রতি ৭০ জনের মধ্যে একজন শরণার্থী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ বছরে প্রথমবারের মতো জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হার কমেছে। ২০২৫ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ শতাংশ কমলেও, লেবাননের ক্রমবর্ধমান বাস্তুচ্যুতি সংকটের কারণে এই অগ্রগতি ম্লান হয়ে গেছে। ইসরাইলি হামলায় দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরে আরো ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৮ দশমিক ৬ মিলিয়ন মানুষ সংঘাত বা অন্যান্য সংকটের কারণে নিজ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। প্রায় ২৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন শরণার্থী ইউএনএইচসিআর-এর ম্যান্ডেটের অধীনে রয়েছেন।
নয় মিলিয়ন মানুষ আশ্রয়প্রার্থী – যারা নিজ দেশে নিপীড়ন বা ক্ষতির ভয়ে অন্য দেশে সুরক্ষা চেয়ে সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। ৭ দশমিক ২ মিলিয়ন মানুষের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা প্রয়োজন। ছয় মিলিয়ন ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইউএনআরডব্লিউএ এর ম্যান্ডেটের অধীনে রয়েছেন।
সকল শরণার্থীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ (৭২ শতাংশ) মাত্র সাতটি দেশের। ভেনেজুয়েলা (৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন), ফিলিস্তিন (৬ মিলিয়ন), ইউক্রেন (৫ দশমিক ২ মিলিয়ন), সিরিয়া (৪ দশমিক ৯ মিলিয়ন), আফগানিস্তান (৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন), সুদান (২ দশমিক ৮ মিলিয়ন), দক্ষিণ সুদান (২ দশমিক ৪ মিলিয়ন)।
আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, শরণার্থী হলেন সেইসব ব্যক্তি যারা নিপীড়ন অথবা জীবন, শারীরিক সুরক্ষা বা স্বাধীনতার প্রতি গুরুতর হুমকি থেকে বাঁচতে নিজ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি শরণার্থী বাস করেন সাতটি দেশে। এগুলো হলো: কলম্বিয়া (২ দশমিক ৮ মিলিয়ন), জার্মানি (২ দশমিক ৭ মিলিয়ন), তুরস্ক (২ দশমিক ৪ মিলিয়ন), উগান্ডা (১ দশমিক ৯ মিলিয়ন), ইরান (১ দশমিক ৭ মিলিয়ন), চাদ (১ দশমিক ৫ মিলিয়ন), পাকিস্তান (১ দশমিক ৩ মিলিয়ন)।
ইরান ও পাকিস্তানের প্রায় সকল শরণার্থীই আফগানিস্তানের। অন্যদিকে তুরস্কের অধিকাংশ শরণার্থী সিরীয়।
কলম্বিয়ার শরণার্থীদের সিংহভাগই ভেনেজুয়েলার, অন্যদিকে জার্মানিতে বিপুল সংখ্যক ইউক্রেনীয়, সিরীয় এবং আফগান শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। উগান্ডার অধিকাংশ শরণার্থী দক্ষিণ সুদানের। একইভাবে চাদের বৃহত্তম বাস্তুচ্যুত গোষ্ঠীটি সুদানি।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ