হোম > বিশ্ব

দ্বিতীয় সপ্তাহে ইরানের বিক্ষোভ, নিহত অন্তত ১২

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। রোববার মানবাধিকার সংগঠন ও স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন করে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ শুরু হয়েছে । সরকারি সূত্রের ওপর ভিত্তি করে করা হিসাব অনুযায়ী, গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, রাতভর তেহরান, দক্ষিণের শিরাজ এবং পশ্চিম ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়।

এই বিক্ষোভকে ২০২২–২০২৩ সালের আন্দোলনের পর সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে। ওই আন্দোলন শুরু হয়েছিল পুলিশ হেফাজতে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর, যিনি নারীদের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক বিক্ষোভ মূলত পশ্চিম ইরানের কুর্দি ও লোর অধ্যুষিত এলাকায় কেন্দ্রীভূত থাকলেও এখনো তা ২০২২–২০২৩ সালের আন্দোলন বা ২০০৯ সালের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর হওয়া গণবিক্ষোভের মতো ব্যাপক আকার নেয়নি। তবে এটি ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা ৮৬ বছর বয়সি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য নিহত হওয়ার পর এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, আগামী চার মাস নাগরিকদের মাসে প্রায় সাত ডলার সমপরিমাণ ভাতা দেওয়া হবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভে আরও মানুষ নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে “খুব কঠোরভাবে আঘাত করবে”। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। আগের মতো যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

মানবাধিকার সংগঠন হেনগাও জানিয়েছে, শনিবার পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের মালেকশাহি এলাকায় বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালালে কুর্দি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজন নিহত হয়। সংগঠনটি আরও জানায়, আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর যাচাই করা হচ্ছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল থেকে নিহতদের মরদেহ জব্দ করার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

নরওয়েভিত্তিক আরেক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটসও চারজন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহতদের জানাজায় সরকার ও খামেনিবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, “দাঙ্গাকারীদের” সঙ্গে সংঘর্ষে এক নিরাপত্তা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং দুই হামলাকারীও প্রাণ হারিয়েছে।

তেহরানে শনিবার রাতে শহরের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ হয়েছে বলে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। রোববার রাজধানীতে অধিকাংশ দোকান খোলা থাকলেও রাস্তাঘাট ছিল তুলনামূলক ফাঁকা, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এসআর/এসআই

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত রাখল ইইউ

এপস্টেইন ফাইল: সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত গ্রেপ্তার

অতিথির বর্ণবাদী মন্তব্য সম্প্রচার করায় ক্ষমা চাইলো বিবিসি

‘ইসরাইলি মডেল’ ঘিরে মোদি সরকারের নীতিতে নতুন বিতর্ক

ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদক সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে 'টালবাহানা করা' দেশগুলোকে চড়া শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

এবার চাঁদের বুকে ইলন মাস্কের 'শহর', আসলেই কি সম্ভব

ইরানে ফলের বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অধিকার আছে, তবে ‘লাল রেখা’ মানতে হবে: ইরান

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন পুতিন: জেলেনস্কি