হোম > বিশ্ব

পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় মুছে যাচ্ছে কাজী নজরুলের স্মৃতিচিহ্ন

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

বর্তমান বিজেপির শুভেন্দু সরকারের অবহেলায় নজরুল তীর্থ চুরুলিয়া থেকে মুছে যাচ্ছে কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিচিহ্ন। নজরুলের স্মতি বিজরিত চুরুলিয়ার শতবর্ষ প্রাচীন নবকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়টি ভেঙে ফেলার তোড়জোড় চলছে। অথচ এই স্কুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কবির এক বিষণ্ণ অধ্যায়।

১৯৬২ সালের ৩০ জুন কবির স্ত্রী প্রমীলা দেবীর মৃত্যু হয়। তার লাশ সমাহিত করার জন্য চুরুলিয়াতেই আনা হয়েছিল। কবির প্রিয় পীর হাজি পালোয়ান সাহেবের দরগার কাছে একটি বিশেষ স্থানে প্রমীলা দেবীকে দাফন করা হয়।

প্রিয়তমার মৃত্যুর পর নির্বাক কবিকেও চুরুলিয়ায় আনা হয়েছিল। সেই সময় কবির জন্মভিটায় গড়ে ওঠা নজরুল একাডেমি ছিল মাত্র দুটি কামরার একটি ছোট ঘর। প্রমীলা দেবীর দাফন এবং কবির আগমন উপলক্ষে চুরুলিয়ায় তখন মানুষের ঢল নেমেছিল। সেই জনসমুদ্র সামাল দিয়ে কবিকে একাডেমির ওইটুকু ঘরে রাখা সম্ভব ছিল না। বাধ্য হয়ে জনতার কোলাহল থেকে দূরে, কবিকে রাখা হয় গ্রামের একমাত্র হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল নবকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়ে। যে কক্ষে কবি ছিলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ আজও তা সযত্নে রক্ষা করে চলেছে। সেখানে রাখা আছে কবির ব্যবহৃত চা খাওয়ার কাপ, ভাত খাওয়ার থালা, বসার চেয়ার এবং একটি টিনের বাক্স। রয়েছে একটি হারমোনিয়ামও, যা বাজিয়ে সেই সময় কবিকে গান শোনানো হয়েছিল।

এখন ইস্টার্ণ কোল ফিল্ডের কলিয়ারি সম্প্রসারণের প্রয়োজনে এই ঐতিহাসিক স্কুলটি ভেঙে দূরে কোথাও সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। কবির মূল জন্মভিটা ১৯৫০-এর দশকেই ভেঙে ফেলা হয়েছিল। তারপর সেখানে গড়ে ওঠে নজরুল একাডেমি। সেও আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগের কথা। মাস কয়েক আগে সেই নজরুল একাডেমিও ভেঙে ফেলা হয়। এখন সেখানে নজরুলের জন্মকালীন আট চালার মাটির বাড়ির আদলে একটি পাকা বাড়ি গড়া হচ্ছে। এই কাজটি করছে রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তর।

১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের প্রথম বছরে নজরুল যখন শেষবার চুরুলিয়ায় আসেন, তখন তিনি এই নজরুল একাডেমির বাড়িতেই সপ্তাহখানেক কাটিয়েছিলেন। এই বাড়িতে থেকেই কবি শেষবারের মতো তার স্ত্রীর কবর ঘুরে দেখেন। তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মক্তবের কাছের সেই মসজিদে, যেখানে তিনি ছোটবেলায় ইমামতি করতেন এবং আজান দিতেন। কবির ছোটবেলায় সেই মসজিদটি ছিল লম্বা উঠোনযুক্ত, মাটির দেওয়াল ও চার চালা খড়ের ঘর। এখন সেখানে বিশাল গম্বুজওয়ালা পাকা দালানের মসজিদ তৈরি হয়েছে। এর অনেক আগেই অবশ্য ভেঙে ফেলা হয়েছে কবির শৈশবের সেই মক্তবের ঘরটিও। সেখানে এখন কবির এক আত্মীয়ের পাকা বাড়ি মাথা উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

চুরুলিয়ায় কবির আরেকটি স্মারক অবশ্য এখনো রয়ে গেছে। সেটি হল পীর হাজি পালোয়ান সাহেবের মাজার। কিন্তু এই পীরের দরগায় কোনও পেল্লায় গম্বুজ গড়ে ওঠেনি, এমনকি তার সীমানা প্রাচীরও নেই। এই মাজারে কবি নিজে পীরের খেদমত করতেন এবং কবির জীবনে এই মাজারের প্রভাব ছিল অপরিসীম।

চুরুলিয়ার তারা কলিয়ারি এক সময় সুড়ঙ্গের গভীরতা ও কয়লার মানের জন্য বিখ্যাত ছিল। প্রায় ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেটি বন্ধ ছিল। ১৯৮০-এর দশকে তার কাছাকাছি এলাকায় বেসরকারি উন্মুক্ত বা ওপেনকাস্ট খনি শুরু হয়। সেটি বন্ধ হওয়ার পর তারা কলিয়ারির লাগোয়া জমিতে আবার একটি বেসরকারি ওপেনকাস্ট কলিয়ারি চালু হয়। কয়েক বছর হল ওই পুরো এলাকাটি ইসিএল-এর আওতায় আসে। তারপর নিলামের মাধ্যমে তার দখল পায় রাজ্য সরকারের পিডিসিএল। এখন তারা একটি বেসরকারি সংস্থাকে দিয়ে সেখানে উন্মুক্ত খনি চালু করেছে।

এই লিজের আওতায় চলে এসেছে নজরুল স্মৃতিধন্য নবকৃষ্ণ উচ্চ বিদ্যালয়। শুধু তাই নয়, গ্রামের মাধ্যমিক স্তরের শৈলবালা বালিকা বিদ্যালয় এবং আরও দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও এর আওতায় পড়েছে।

চুক্তি নিয়ে সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: ইরানি প্রেসিডেন্ট

ইরান চুক্তিতে সহায়তা দিতে প্রস্তুত তুরস্ক

যেকোনো নতুন আগ্রাসনের বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে: আইআরজিসি

পাকিস্তানে সামরিক সদস্যবাহী ট্রেনে বিস্ফোরণ, নিহত ২৪

চাঁদে মানব অভিযানের লক্ষ্যে এক বছরের মহাকাশ মিশনে যাচ্ছে চীন

ট্রাম্পের ওপর নেতানিয়াহুর প্রভাব কমেছে

স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মাদ্রিদ

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ১৩

গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

পাকিস্তানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ২৫ সন্ত্রাসী নিহত