পশ্চিমবঙ্গের একটি ছোট গ্রামে জন্ম নেওয়া শাহিদা ফকির কখনো ভাবেননি, নিজের দেশের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে তাকে এতটা হয়রানির শিকার হতে হবে। ভারতীয় জন্মসনদ, পারিবারিক জমির মালিকানার নথি এবং বাবা-মায়ের ভোটার তালিকায় নাম থাকার প্রমাণ—সবই জমা দিয়েছিলেন তিনি। এরপরও ভারতের ভোটার তালিকায় নিজের নাম ধরে রাখতে পারেননি এই নারী। পরে তাকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী আখ্যা দিয়ে সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ফকিরের দাবি, তিনি কখনো বাংলাদেশে যাননি। অথচ গত জুলাইয়ে তাকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে সীমান্তবর্তী একটি গ্রামে আটকে রয়েছেন তিনি। নিজের পরিবার ও ভারতে থাকা বাড়িতে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে তার।
ভারতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ফকিরের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার হারানোর পাশাপাশি নাগরিকত্ব নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন। বিশেষ করে মুসলিম, দরিদ্র ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে দাবি তাদের।
গত বছর শুরু হওয়া এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংখ্যাটি জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। ভারতের স্বাধীনতার পর এত অল্প সময়ে ভোটার তালিকা থেকে এত বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার নজির নেই।
নরেন্দ্র মোদী সরকার এসআইআর-কে ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করার একটি বৈধ প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রক্রিয়ায় মৃত ব্যক্তি ও একই ব্যক্তির একাধিক নাম (ডুপ্লিকেট এন্ট্রি) তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এসব অনিয়ম দূর করার নামে অনেক বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে কমিশন।
সমালোচকদের অভিযোগ, অবৈধ অভিবাসীদের নাম বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধ’ করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা আরও অশুভ উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে—যার লক্ষ্য হলো কোটি কোটি মুসলিম, অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং দরিদ্র ও নিম্নবর্ণের মানুষদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা, যারা মূলত বিজেপির ভোটার নন।
ভোটাধিকার হারিয়ে বাংলাদেশে আটকে নারী
পশ্চিমবঙ্গের শাহিদা ফকিরের কাছে ভোটাধিকার হারানোর ঘটনা শুধু রাজনৈতিক অধিকার হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার মাত্র তিন মাস পর পুলিশ তাকে আটক করে বলে তার অভিযোগ। এ সময় তার করা আপিলের শুনানি চলছিল। এর মধ্যেই তাকে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
ফকির জানান, ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে তার কাছে জন্মসনদ এবং পারিবারিক জমির মালিকানার নথি রয়েছে। তার বাবা-মায়ের নামও কয়েক দশক ধরে ভোটার তালিকায় ছিল। এত প্রমাণ থাকার পরও তাকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সীমান্তের একটি গ্রাম থেকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফকির বলেন, “আমি যে একজন ভারতীয় নাগরিক, তা প্রমাণ করার মতো সব নথিপত্র আমার কাছে আছে। পুলিশকে পায়ে ধরে অনুরোধ করেছিলাম, যেন আমাকে বাংলাদেশে পাঠানো না হয়। কিন্তু তারা আমাকে জোর করে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেয়।”
বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্মকর্তা তার বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ফকিরের নথিপত্র যাচাই করে তারা নিশ্চিত হয়েছেন, তিনি ভারতের নাগরিক।
গত সেপ্টেম্বর মাসে ফকিরের পরিবার তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। এ বিষয়ে জবাব দিতে ভারত সরকারকে এক মাস সময় দেওয়া হয়।
ফকির বলেন, “আমি শুধু আমার পরিবার ও ভারতে থাকা বাড়িতে ফিরে যেতে চাই। সেই দিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।”
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া লাখ লাখ মানুষ নাম পুনর্বহালের জন্য আপিল করেছেন। ফলে ফকিরের আবেদনের শুনানি শেষ হতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিজেদের দেশেই ‘বিদেশি’ হওয়ার আতঙ্ক
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানুষ নিজেদের দেশেই বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। কারও কারও ক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ-সুবিধা হারানোর উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার ৮০ বছর বয়সী মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ সিদ্দিকী জানান, তার দাদা ভারতের স্বাধীনতাসংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। পরিবারের তিন প্রজন্মের নামও ভোটার তালিকায় ছিল। কিন্তু এসআইআরের পর তালিকা থেকে তার নিজের নাম বাদ পড়ায় তিনি অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন।
সিদ্দিকী বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় আমি সব সময় গভীর আতঙ্কে থাকি। যদি আমাকে কোনো আটক কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তখন কী হবে?”
তিনি আরও বলেন, “এই বয়সে সন্তান ও নাতি-নাতনিদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা ভাবতেও পারি না। আমার পূর্বপুরুষদের সবাইকে ভারতের মাটিতেই সমাহিত করা হয়েছে।”
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন
সমালোচকদের মতে, ভারতের নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৩ সালে। সে সময় মোদি সরকার নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনে। নতুন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো নিয়োগসংক্রান্ত প্যানেলে সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক মাস পর বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও মোদি-নেতৃত্বাধীন প্যানেল জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হন।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক গবেষণা কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ ফেলো রনজয় সেন বলেন, কয়েক দশক ধরে ভারতের নির্বাচন কমিশনকে অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এর পরের বছর বিহারে এসআইআর কার্যক্রম শুরু হয়। সেখানে ৬০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়ার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে। ওই সংশোধন কার্যক্রমের পর বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পায়। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী ফলাফলের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি।
গত মাসে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রকাশ করে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্য ১৪টি আপত্তি তুলেছিলেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে সেগুলো নাকচ করে দেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। এরপর এসআইআরবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
রনজয় সেনের মতে, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও নাগরিকদের মধ্যে ভোট দেওয়ার অধিকার এবং নিয়মিত নির্বাচনের বিষয়ে আস্থা ছিল। এসআইআর সেই আস্থায় আঘাত করেছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনজন সাবেক নির্বাচন কমিশনারও এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বদলে নাম বাদ দেওয়ার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় ভোটার তালিকার গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওপি রাওয়াত ভোটার নিবন্ধন ফরমে আনা পরিবর্তনগুলোকে ভুল ও বেআইনি বলে মন্তব্য করেছেন।
২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা অশোক লাভাসা এসআইআর বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। গত মাসে তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের ওপর একটি অন্যায্য প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তার প্রশ্ন, ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে?
২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা এস ওয়াই কুরেশিও এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, এটি জাতীয় পর্যায়ে হয়রানির একটি প্রক্রিয়া, যার লক্ষ্য ভোটার তালিকা থেকে মুসলিমদের বাদ দেওয়া। তার মতে, নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনতে বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির
এসআইআর কার্যক্রমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলটির দাবি, বিরোধীরা সাম্প্রতিক নির্বাচনী পরাজয় ও রাজনৈতিক হতাশা থেকে এসব অভিযোগ তুলছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া ব্যক্তিরা চাইলে পুনরায় নাম নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে দলটি।
বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বিরোধীদের অভিযোগকে অপপ্রচার হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, বিভাজন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তবে নির্বাচন কমিশনও প্রক্রিয়াটিতে কিছু সমস্যার বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে ভোটার তালিকা থেকে অন্য ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে আবেদন জমা দেওয়ার সংখ্যায় সীমা আরোপ করে কমিশন। বৈধ মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্য করে বিপুলসংখ্যক আপত্তি জমা দেওয়ার অভিযোগের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
দিল্লিতে বিক্ষোভ, পদত্যাগের দাবি
এসআইআর নিয়ে ক্ষোভ এখন ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ মোকাবিলায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা। দলটি এসআইআরবিরোধী বিক্ষোভের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে।
সোমবার বিরোধী দলগুলোও দিল্লিতে মিছিল করে এবং সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়ে কুমারের পদত্যাগ দাবি জানায়। তাদের অভিযোগ, এসআইআরকে ব্যবহার করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে মোদি সরকার নির্বাচনী সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পশ্চিমবঙ্গেও এই বিতর্কের প্রভাব পড়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে এবং বেশ কয়েকটি নতুন আটক কেন্দ্র স্থাপন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সুশীল সমাজের বিভিন্ন সংগঠনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মুসলিমদের অনেককে এসব অভিযানের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
দিল্লির বাসিন্দা ৬০ বছর বয়সী প্রশান্ত ট্যান্ডনও এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গত ৩০ বছর ধরে দিল্লিতে বসবাস করা ট্যান্ডন জানান, ভোটার হিসেবে তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হলে তিনি বিস্মিত হন।
ট্যান্ডন বলেন, ‘কেউ যদি আমার নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ করেন, তাহলে তাকেই আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ হাজির করতে হবে।’
তিনি জানান, তরুণদের পাশাপাশি তিনিও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার ভাষায়, ‘একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আমাকে আমার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়।’
এসআইআর নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নাগরিকত্বের স্বীকৃতি, প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা। সমালোচকেরা বাদ পড়া বৈধ ভোটারদের নাম পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকার ও বিজেপি বলছে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করতেই এই সংশোধন প্রয়োজন।
এই বিতর্কের মধ্যে শাহিদা ফকিরের মতো মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে রয়েছে। নিজের নাগরিকত্বের নথি থাকার দাবি সত্ত্বেও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অন্য দেশে আটকে থাকার অভিজ্ঞতা তার কাছে ভোটাধিকার হারানোর চেয়েও বড় সংকটে পরিণত হয়েছে।