হোম > বিশ্ব

লাশ উদ্ধার থেকে ত্রাণ পৌঁছানো—নেপালের দুর্গম পাহাড়ে ‘ত্রাতা’ ড্রোন

আমার দেশ অনলাইন

নুয়াকোটের দেবীঘাটে একটি ড্রোন এক বন্যা দুর্গত ব্যক্তির লাশ বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত।

বন্যায় বিধ্বস্ত নেপালের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এবার শুধু ছবি তোলা বা ভূমির মানচিত্র তৈরির কাজে নয়, বরং লাশ উদ্ধারের কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন। বুধবারের নেপালের ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে নুয়াকোটের দেবীঘাট-৩ এলাকা থেকে সাতটি লাশ ড্রোনের মাধ্যমে দেবীঘাট-৫ এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকারীরা ওই এলাকায় নিরাপদে পৌঁছাতে পারছিলেন না।

নেপাল পুলিশ, নেপাল সেনাবাহিনী এবং ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গারুডএক্সের সদস্যরা এ অভিযানে অংশ নেন। প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ড্রোনের ‘এখন পর্যন্ত সবচেয়ে অস্বাভাবিক ভূমিকা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেপালের দুর্যোগ মোকাবিলায় ড্রোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। দুর্গম এলাকায় খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়া, আটকে পড়াদের সন্ধান করা এবং উদ্ধারকারীদের জন্য বিপজ্জনক স্থান থেকে লাশ সরিয়ে আনার মতো কাজেও এগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।

দেবীঘাট-৩-এর মতো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সক্ষম ড্রোন ব্যবহার করে আটকে পড়া গ্রামবাসীদের অবস্থাও জানা হচ্ছে। ড্রোনের লাউডস্পিকারে তাদের পানি, খাবার বা ওষুধ প্রয়োজন কি না জানতে চাওয়া হচ্ছে। জবাবে গ্রামবাসীদের হাত তুলতে বলা হয়।

এয়ারলিফট টেকনোলজির পরিচালক ও ড্রোনচালক মিলন পান্ডে বলেন, গ্রামবাসীদের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে তাদের প্রয়োজন নির্ধারণ করে ড্রোনের মাধ্যমে সরবরাহ পাঠানো হচ্ছে। গত তিন দিনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবারসহ অন্তত দেড় টন জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ড্রোনের মাধ্যমে আটকে পড়াদের অবস্থান শনাক্ত করতেও নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের ফোন নম্বর বা ঠিকানা কোনো প্ল্যাকার্ডে কিংবা মাটিতে লিখে রাখতে বলা হচ্ছে। এতে ড্রোন পরিচালনাকারীরা সহজেই তাদের অবস্থান ও প্রয়োজন শনাক্ত করতে পারছেন।

সাম্প্রতিক বন্যায় নেপালের বহু সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। ফুলে-ফেঁপে ওঠা নদীর কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক জনপদ। এমন পরিস্থিতিতে দুর্গম এলাকায় দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে ড্রোন কার্যকর হয়ে উঠেছে।

এদিকে আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেলের ভেতরেও ড্রোন পাঠানো হয়েছে। বন্যার পর সেখানে বহু শ্রমিক আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল।

ড্রোনচালক আদর্শ ভুসাল বলেন, প্রকল্পের প্ল্যাটফর্ম-১ পর্যন্ত পৌঁছে তারা দেখতে পান টানেলটি পানি ও পাথরে পূর্ণ। ভেতরে প্রবেশ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন। ড্রোনটি টানেলের ভেতরে কোনো জীবিত মানুষের সন্ধান পায়নি।

নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী ও ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালে দুর্যোগ মোকাবিলায় ড্রোন ব্যবহারের ভিত্তি তৈরি হয় ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর। তখন ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে আসে। পরবর্তী সময়ে নেপালের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও তরুণ ড্রোনপ্রেমীরা এ প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়ন এগিয়ে নেন।

নেপালের এই প্রযুক্তি এখন দেশের বাইরেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বেসরকারি খাত ভুটানে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি মূল্যায়নেও ড্রোনভিত্তিক সেবা দিয়েছে।

তবে ড্রোন ব্যবহারের কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। এর বহনক্ষমতা, উড্ডয়ন পরিসর এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনেক সময় কার্যক্রমকে সীমিত করে। তবু যেখানে সড়ক নেই, নদী পার হওয়া অসম্ভব কিংবা ভূখণ্ড মানুষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক—সেখানে ছোট আকারের একটি ড্রোনও বড় ধরনের সহায়তা দিতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, হেলিকপ্টারের তুলনায় ড্রোনে ত্রাণ পরিবহন অনেক কম খরচে করা যায়।

মিলন পান্ডের মতে, ভূমিকম্প, বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ি দুর্যোগে বারবার আক্রান্ত হওয়া নেপালের জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি ড্রোন প্রযুক্তি দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। মানুষের জন্য যেখানে পৌঁছানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সেখানে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি, ত্রাণ পরিবহন এমনকি উদ্ধার কার্যক্রমও চালানো সম্ভব।

কাঠমান্ডুভিত্তিক এয়ারলিফট টেকনোলজি আমদানি করা যন্ত্রাংশ দিয়ে দেশে ড্রোন সংযোজন করে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলছেন, এখন এই প্রযুক্তির আরো ব্যাপক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত সরকারি নীতি। পান্ডে বলেন, ‘জীবন বাঁচাতে সক্ষম এই প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে আমাদের শুধু উপযুক্ত নীতি প্রয়োজন।’

এমএমআর

বারবার যুদ্ধবিরতি, আবারো যুদ্ধ—যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের ৬ মাসের ঘটনাপ্রবাহ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় শেয়ার বাজারে ধস, বাড়ছে বন্ড বিক্রি

ইসরাইলের সঙ্গে ৩৬০ কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি করছে গ্রিস

ডুবেছে কলকাতা, বড় বিপদের পূর্বাভাস

জাপানে এক বছরে ১৪ হাজারের বেশি ভালুক নিধন

বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলল ইরান

দুই লাখ বাংলাদেশি নেওয়ার খবর নাকচ করল মালয়েশিয়া

ইন্টারনেট-টিভি থেকে দূরে, ১০ সন্তানও কম—নিউইয়র্কের হাসিদিক ইহুদিদের অজানা জীবন

মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান

মায়ের পথেই ব্রিজিতের মেয়ে, ৪২-এ এসে ২২ বছরের তরুণের সঙ্গে প্রেম