হোম > বিশ্ব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও বাড়ল তেলের দাম

রয়টার্স

প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ নতুন করে আবার চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালির কৌশলগত লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক হামলা এবং তার জবাবে জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আক্রমণের পর বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক তেলের দাম এক লাফে ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সোমবারে এশিয়ান লেনদেনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.০৮ ডলার (১.২৩ শতাংশ) বেড়ে ৮৯.১৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন তৈরি ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৯২ সেন্ট (১.১০ শতাংশ) বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪.৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

লারাক দ্বীপে সামরিক সংঘাত

জুলাইয়ের শেষভাগের পর এই প্রথম রোববার হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী সরাসরি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক হামলা চালাল।

সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, দ্বীপটির দুটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র বা রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়।

পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সোমবার সকালে জর্ডানে অবস্থিত দুটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার কারণে তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

আইজি মার্কেটের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, মনে হচ্ছে সংঘাত আবারও উত্তেজনার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তবে এই পরিস্থিতি কত দিন চলবে, তা বলা কঠিন। কয়েক দিনও হতে পারে, আবার কয়েক সপ্তাহও চলতে পারে।

সাইকামোরের মতে, সংঘাত আরো বাড়লে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ৮০ থেকে ৮৫ দশমিক ৯০ ডলারের প্রতিরোধমাত্রা অতিক্রম করতে পারে। সে ক্ষেত্রে দাম আরো বাড়ার পথ খুলে যাবে। প্রথমে তা গত সপ্তাহের সর্বোচ্চ ৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে উঠতে পারে। এরপর জুলাইয়ের সর্বোচ্চ ৯৩ দশমিক ৫০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে।

হরমুজ নিয়ে উদ্বেগ

সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনা এখন অচলাবস্থায় রয়েছে। এদিকে মধ্যস্থতাকারীরা হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ কিছুটা বাড়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মনে করছেন এএনজেডের বিশ্লেষকেরা। এক গ্রাহক নোটে তারা বলেন, প্রণালিটি আবার পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পথ এখনো অনিশ্চিত। তবে তেল পরিবহন বাড়ায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।

তবে জাহাজ চলাচলের সর্বশেষ তথ্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। সোমবার প্রকাশিত শিপিং ডেটা অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমেছে। জাহাজে হামলার আশঙ্কায় অনেক কোম্পানি সতর্ক অবস্থান নেওয়ায় এই পতন হয়েছে।

এর আগে রোববার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছিল, শনিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভেতরের দিকে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকারে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হানে।

যুক্তরাষ্ট্রের মজুত নিয়েও উদ্বেগ

তেলের বাজারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার বলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি চুক্তির আওতায় পাওয়া তেল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বা কৌশলগত তেল মজুত আবার পূরণ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই কৌশলগত তেল মজুত বর্তমানে প্রায় ৪৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে গেছে।

এদিকে আগস্টে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম সামান্য কমার পথে রয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে উভয় ধরনের তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছিল। তিন সপ্তাহের মধ্যে সেটিই ছিল তাদের প্রথম সাপ্তাহিক দরপতন।

তবে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা তেলের বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে সরবরাহব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এএম

ইরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজে দিনে পার হচ্ছে মাত্র ৫ জাহাজ

ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় বড় লোকসানে চীনের তিন এয়ারলাইন

মার্কিন হামলার বিধ্বংসী প্রতিশোধের হুমকি ইরানের

ইরানের খার্গ দ্বীপ ‘উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে’, দাবি ট্রাম্পের

হরমুজে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

সাইপ্রাস উপকূলে ফেরিডুবি, নিহত ৮

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়াল

আগ্রাসন হলে চুপ থাকবে না ইরান

ইরানের খার্গ দ্বীপ ‘ধ্বংসের’ এআই ভিডিও পোস্ট করলেন ট্রাম্প