হোম > বিশ্ব

তীব্র তাপপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের আশঙ্কা, সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

তীব্র তাপপ্রবাহে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল জ্বলছে। বৃহস্পতিবার দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একাধিক দাবানলের মুখে পড়েছেন অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা। পরিস্থিতি ‘ভয়াবহ’ আকার নিতে পারে—এমন সতর্কতা দিয়ে বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে করে ২০১৯–২০২০ সালের বিধ্বংসী ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের কান্ট্রি ফায়ার অথরিটির প্রধান কর্মকর্তা জেসন হেফারনান বলেন, রাজ্যের কিছু এলাকায় আগুনের ঝুঁকি সূচক ‘ভয়াবহ’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তার ভাষায়, “এটি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি। আগুন লাগলে তা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।” তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি সিদ্ধান্ত জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা কমিশনার টিম উইবুশ জানান, গরম ও শুষ্ক বাতাস দাবানলকে আরও অনিয়ন্ত্রিত ও দ্রুতগতির করে তুলবে। ভিক্টোরিয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রিমিয়ার বেন ক্যারোল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগেভাগেই বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগুনে ঘেরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাইরে থেকে বোঝা যায় না—ধোঁয়া, শব্দ ও মানসিক চাপ এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

ইতোমধ্যে ভিক্টোরিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসের বিভিন্ন এলাকায় দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে দমকল বাহিনী। অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল এ দুই অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত কোটি মানুষকে, যার মধ্যে সিডনি ও মেলবোর্নের মতো বড় শহরের বাসিন্দারাও রয়েছেন, সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ভিক্টোরিয়ার রাজধানী মেলবোর্ন থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তরে লংউড এলাকায় কয়েকটি সম্পত্তি পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি আবহাওয়াবিদ সারা স্কালি জানান, দেশজুড়ে ‘চরম’ তাপপ্রবাহ বিস্তার লাভ করেছে এবং ভিক্টোরিয়া ও দক্ষিণ নিউ সাউথ ওয়েলসে শুষ্ক বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে, যা নতুন করে আগুন লাগার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

এদিকে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় প্রচণ্ড গরমে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই শত শত বাদুড়ের ছানা মারা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি বন্যপ্রাণী সংগঠন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের শেষ থেকে ২০২০ সালের শুরুর দিকে ‘ব্ল্যাক সামার’ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলে কয়েক লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে যায়, ধ্বংস হয় হাজারো ঘরবাড়ি এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় ঢেকে যায় বড় বড় শহর। গবেষকদের মতে, ১৯১০ সালের পর থেকে দেশটির গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন ঘটছে।

এসআর/এসআই

‘ইসরাইলি মডেল’ ঘিরে মোদি সরকারের নীতিতে নতুন বিতর্ক

ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদক সন্দেহে নৌযানে মার্কিন হামলায় নিহত ৩

বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে 'টালবাহানা করা' দেশগুলোকে চড়া শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

এবার চাঁদের বুকে ইলন মাস্কের 'শহর', আসলেই কি সম্ভব

ইরানে ফলের বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ৪

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের অধিকার আছে, তবে ‘লাল রেখা’ মানতে হবে: ইরান

লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন পুতিন: জেলেনস্কি

হামাস নিরস্ত্র না হলে পুরো গাজা দখলের হুমকি ইসরাইলি মন্ত্রীর

এআই থেকে স্টারলিংক: ড্রোন যেভাবে বদলে দিচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ

ইমরান খানের চোখের চিকিৎসার দ্বিতীয় ধাপ সম্পন্ন, দৃষ্টিশক্তিতে উন্নতি