সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা পেরিয়ে ইরানের সীমান্ত এলাকার কাছে গিয়েও কোনো হামলা না চালিয়ে ফিরে এসেছে দখলদার ইসরাইলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান। তেহরানকে নতুন করে হামলায় প্ররোচিত করে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার উদ্দেশে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
গতকাল বুধবার ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে এ অভিযান পরিচালনা করে ইসরাইলি বিমানবাহিনী। এতে বেশ কিছু যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়। বিমানগুলো ইরানি সীমানার খুব কাছে পৌঁছে ভূখণ্ডে প্রবেশ না করেই আবার ইসরাইলে ফিরে যায়।
মার্কিন সূত্রের বরাতে চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি দেখে ইরানি বাহিনী গুলি চালাবে—এমনটিই হয়ত আশা করেছিল ইসরাইল। ফলে পরবর্তীতে সেটিকে অজুহাত করে ইরানে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতো। তবে মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা এ অভিযানকে কেবলই ‘ইরানকে প্রতিরোধের বার্তা দেওয়ার সামরিক মহড়া’ হিসেবে দাবি করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্বাহ্ণে অবহিত করেই এ অভিযান চালানো হয়েছিল।
এদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে ইরানে কয়েক দিনব্যাপী বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াতে আপত্তি জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ১০ অক্টোবরের সেই পরিকল্পিত হামলা বাতিল করা হয়।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর সাম্প্রতিক এই যুদ্ধবিমানের মহড়া ও নতুন হামলার খবর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে আরও বাড়াল।