দ্বিতীয় দফায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মাদক সন্ত্রাসের অভিযোগে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে সস্ত্রীক তুলে আনা হয় দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে। তারপর তাকে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের আদালতে হাজির করা হয়। মাদুরোর ঘটনার পর ডেনমার্কের অধীন, স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা আবারো জানিয়েছেন ট্রাম্প। এবার বেশ সাহসের সঙ্গেই এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন পদক্ষেপ ন্যাটোর কার্যক্রমকে কার্যত সমাপ্তির দিকে নিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে ইউক্রেনে আরো আগ্রাসন চালাবে রাশিয়া। আলজাজিরাকে এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাদুরোকে তুলে আনার একদিন পরই ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ঘোষণা দেন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন, আর তা জাতীয় স্বার্থেই। তার এমন কর্মকাণ্ড ইউরোপকে উদ্বিগ্ন তরে তুলেছে।
হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেছেন, এই প্রশাসনের শুরু থেকেই আমেরিকার আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট। গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়া উচিত।
থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের উত্তর ইউরোপ পরিচালক আনা উইসল্যান্ডার বলেছেন, ভেনিজুয়েলার পদক্ষেপ পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্য বিস্তারের ট্রাম্প প্রশাসনের দৃঢ় সংকল্পকে চিত্রিত করে। তিনি আরো বলেন, মূলত ভেনেজুয়েলায় সফল হস্তক্ষেপের পরপরই গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা এবং গোলার্ধের অন্যান্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দেয় ওয়াশিংটন। যা ইউরোপ এবং ন্যাটোকে উদ্বিগ্ন করে তুলে।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডারিকসন ৪ জানুয়ারি ডেনমার্কের পাবলিক ব্রডকাস্টারকে বলেছিলেন, তিনি মনে করেন, ট্রাম্প যখন গ্রিনল্যান্ড চান, তখন তাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। তবে এটি ন্যাটো জোটের জন্য মৃত্যু ডেকে আনবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো ন্যাটো দেশ আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডেনিশ প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন উইসল্যান্ডার। তিনি বলেন, যদি সবচেয়ে অন্ধকার সময় আসে এবং যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডকে দখল করার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করে, তাহলে অনুচ্ছেদ ৫ এবং ন্যাটোর মধ্যে সম্মিলিত প্রতিরক্ষার সারমর্ম তার অর্থ হারাবে। অনুচ্ছেদ ৫ হলো ন্যাটোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা, যা মিত্রদের একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দেয়।
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক জন মিয়ারশাইমার বলেছেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলে নিলে মূলত জোটকে ধ্বংস করা হবে। এক্ষেত্রে ন্যাটো নিজেই নিজের একটা ছায়া হবে। এটি কার্যকরভাবে সমাপ্ত হয়ে যাবে।
তবুও যখন ইউরোপের নেতারা প্যারিসে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তা তৈরির জন্য সাক্ষাৎ করেছেন সে সময় ভেনেজুয়েলা বা গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে কোনো আলোচনাই করেননি।