হোম > বিশ্ব

তিন বছরের তাপপ্রবাহে বিবর্ণ বিশ্বের অর্ধেক প্রবাল

গবেষণা প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টানা তিন বছরের তীব্র তাপপ্রবাহে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রবাল প্রাচীর বিবর্ণ হয়ে গেছে বলে আন্তর্জাতিক গবেষণায় উঠে এসেছে। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদি সামুদ্রিক তাপপ্রবাহের প্রভাবেই এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গবেষণাটি সম্প্রতি নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

‘থার্ড গ্লোবাল ব্লিচিং ইভেন্ট’নামে পরিচিত এ গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে প্রবাল প্রাচীরের ৫১ শতাংশ বিবর্ণ হয়ে গেছে এবং এর মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। গবেষকদের মতে, এটি ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বৈশ্বিক প্রবাল বিবর্ণ হওয়ার ঘটনা।

পানামাভিত্তিক স্মিথসোনিয়ান ট্রপিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র বিজ্ঞানী এবং গবেষণার সহ-লেখক শন কনলি বলেন, এটি ছিল নজিরবিহীন মাত্রার প্রবাল বিবর্ণ হওয়ার ঘটনা। তিনি আরো জানান, ২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া চলমান তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে এবং নতুন করে প্রবাল প্রাচীর হুমকির মুখে পড়ছে।

সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে প্রবাল তাদের দেহে বসবাসকারী অণুবীক্ষণিক শৈবাল বের করে দেয়। এই শৈবালই প্রবালকে রঙ ও পুষ্টি জোগায়। শৈবাল হারালে প্রবাল সাদা বা বিবর্ণ হয়ে যায়। তাপমাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে প্রবাল খাদ্যাভাবের কারণে মারা যায়।

গবেষণায় ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে সাগর ও আকাশপথে ১৫ হাজারের বেশি প্রবাল প্রাচীর পর্যবেক্ষণ করা হয়। উপগ্রহভিত্তিক তাপমাত্রা ও পরিবেশগত চাপের তথ্য এবং পরিসংখ্যানগত মডেল ব্যবহার করে গবেষকরা বৈশ্বিক প্রবাল বিবর্ণ হওয়ার পরিমাণ নিরূপণ করেন।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, ২০১৪-১৭ সময়কালের রঙ বিবর্ণ হওয়া ছিল দীর্ঘস্থায়ী এবং এক বছরের বেশি সময় ধরে চলেছেÑযা আগে দেখা যায়নি। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফে এ সময়ে ধারাবাহিকভাবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার জেমস কুক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্কট হেরন বলেন, প্রবাল প্রাচীরগুলোর একবার বিবর্ণ হওয়ার পর পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে না। ফলে ক্ষতির মাত্রা বাড়ছে।

গবেষকরা সতর্ক করেছেন, সমুদ্রের উষ্ণতা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে প্রবাল প্রাচীরভিত্তিক সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বৈশ্বিক বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য অনুযায়ী, প্রাক-শিল্পযুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে অধিকাংশ প্রবাল প্রাচীর ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অধীনে দেশগুলো বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে ঐকমত্যে পৌঁছায়। তবে বর্তমান উষ্ণায়নের ধারা অব্যাহত থাকলে সেই লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিএনপি সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ চীনের

তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে অভিনন্দন মমতার

চীনের নৌযান জব্দ করল জাপান

পাকিস্তানে ৫.৬ মাত্রার ভূমিকম্পের আঘাত

কিমের পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব দেবেন তার কন্যা

মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে শক্তিশালী পরিবহন ব্যবস্থা গড়তে এরদোয়ানের আহ্বান

ডান চোখে মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি রয়েছে ইমরানের

স্কুলে যাওয়ার বদলে জীবন বাঁচাতেই ব্যস্ত গাজার শিশুরা

বিএনপির জয়: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে

বিশ্বে শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে তুরস্ক: এরদোয়ান