হোম > বিশ্ব

ফ্রান্সের মতো একই বিপদের মুখে কি যুক্তরাষ্ট্রও

আমার দেশ অনলাইন

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সরকারি ঋণের চাপ ও সহিংস বিক্ষোভ নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—একই ধরনের সংকটে কি পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রও? দুই দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার মধ্যে মিল রয়েছে। তবে অর্থনীতির কাঠামো, সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় অবস্থানের কারণে তাদের ঝুঁকি এক নয়।

সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ফ্রান্সের মতো আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই।

ফ্রান্সের সংকট কেন এত গভীর হচ্ছে?

ফ্রান্সের সংকট কেবল রাস্তায় বিক্ষোভ বা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি, বাড়তে থাকা সরকারি ঋণ, দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাব।

ফ্রান্সের অর্থনীতি চলতি বছর প্রায় ০.৫ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। দেশটির পার্লামেন্টে বিভক্তির কারণে বাজেট নিয়ে সমঝোতা কঠিন হয়ে পড়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাজেট ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। সরকার ৫৪ বিলিয়ন ইউরোর সাশ্রয়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারলেও ঘাটতি ৫ শতাংশ বা তার বেশি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারি ঋণও জিডিপির ১২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে সরকারকে একদিকে ব্যয় কমাতে হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণের ক্ষোভ সামলাতে হচ্ছে। কর বাড়ানো বা সরকারি ব্যয় কমানোর মতো পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে অজনপ্রিয়। আবার প্রয়োজনীয় সংস্কার পিছিয়ে দিলে ঋণের সুদ পরিশোধে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে।

ফ্রান্সের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট পরস্পরকে আরো জটিল করে তুলছে। উচ্চ সুদের হার সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ায়, আর দুর্বল প্রবৃদ্ধি রাজস্ব আয় ও ঋণ সামলানোর সক্ষমতাকে আরও চাপে ফেলে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণও কি একই পথে?

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গাগুলোর একটি হলো সরকারি ঋণ। দেশটির অর্থনীতি ফ্রান্সের তুলনায় অনেক বড় হলেও ঋণের বোঝা, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য বাড়তে থাকা ব্যয় এবং জীবনযাত্রার খরচ—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনও কঠিন আর্থিক সিদ্ধান্তের মুখে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১২৫ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্থনীতির আকারের তুলনায় দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ অনেক বড়। একই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক বিভাজন এবং ব্যয় কমানোর ব্যাপারে অনীহা দুই দেশের আর্থিক সমস্যাকে আরও জটিল করছে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঋণ বেশি হলেই কোনো দেশ অবধারিতভাবে আর্থিক সংকটে পড়বে—এমন নয়। ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, সুদের হার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সুবিধা হলো, আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থায় ডলারের কেন্দ্রীয় ভূমিকা। বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বন্ডও আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ফ্রান্সের তুলনায় আলাদা সুযোগ রয়েছে।

তবে এই সুবিধা সীমাহীন নয়। ঋণ বাড়তে থাকলে এবং সুদ পরিশোধে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হলে প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য খাতে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ সংকুচিত হতে পারে। ঋণ নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে রাজনৈতিক ক্ষোভও বাড়ে

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জনসেবায় অর্থের ঘাটতি বড় ভূমিকা রেখেছে। জ্বালানি, পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ পড়ে। একই সময়ে সরকার যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে অসন্তোষ আরো বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রেও জীবনযাত্রার ব্যয় একটি বড় রাজনৈতিক ইস্যু। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানসাসে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও জ্বালানি ও ডিজেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে। কৃষকেরা শুল্কনীতি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন। কানসাসে পেট্রলের দাম আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি ছিল বলে মোটরচালকদের সংগঠন এএএ জানিয়েছে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধান করা। অর্থনীতি ভালো চলছে—এমন সরকারি দাবি সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার সঙ্গে না মিললে সরকারের ওপর আস্থা কমতে পারে। আর্থিক অনিশ্চয়তা থেকে তৈরি ক্ষোভ তখন রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করতে পারে।

তবে ফ্রান্সের বিক্ষোভের কারণকে শুধু অভিবাসন বা ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবার ঘাটতি ও রাজনৈতিক অসন্তোষের মতো একাধিক কারণ উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: যুক্তরাষ্ট্রও কি ‘ফ্রান্সের মতো জ্বলবে’?

ফ্রান্সের অস্থিরতা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর কানসাসে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেন, ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রেও ফ্রান্সের মতো সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে এ আশঙ্কার পক্ষে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ দেননি। তিনি ফ্রান্সের সহিংস বিক্ষোভকে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করেন। একই সমাবেশে অভিবাসন ও মুসলিমদের নিয়েও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন তিনি।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ফ্রান্সে কী ঘটছে, তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করা যায়; কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলের বিজয়ই সহিংসতা নিশ্চিত করবে—এমন দাবি তথ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত নয়।

ট্রাম্পের বক্তব্য তাই শুধু নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা নয়, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হিসেবেও বিবেচ্য। অর্থনৈতিক চাপ ও জনঅসন্তোষ যখন ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তখন প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো প্রায়ই প্রতিপক্ষের নীতিকে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার কারণ হিসেবে তুলে ধরে।

গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা কমছে কেন?

অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। জনগণ যদি মনে করে তাদের ভোট, মতামত বা দৈনন্দিন সমস্যা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না, তাহলে অসন্তোষ বাড়তে পারে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ১০ জুন ২০২৬ প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং ফ্রান্সে একই হারে—৬৯ শতাংশ—মানুষ নিজেদের দেশের গণতন্ত্র যেভাবে কাজ করছে, তাতে অসন্তুষ্ট। ১৬টি উচ্চ আয়ের দেশের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে এ দুটি দেশেই অসন্তুষ্টির হার ছিল অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে গণতন্ত্র নিয়ে সন্তুষ্টির হার ২০২৫ সালের ৩৭ শতাংশ থেকে ২০২৬ সালে কমে ৩০ শতাংশে দাঁড়ায়।

এ পরিসংখ্যান দেখায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সমস্যার মধ্যে শুধু অর্থনৈতিক মিল নেই; গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়েও উভয় দেশের জনগণের মধ্যে হতাশা রয়েছে।

তবে গণতন্ত্র নিয়ে অসন্তুষ্টি মানেই মানুষ গণতন্ত্রের বিরোধী—এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই সমর্থন করে, কিন্তু মনে করে নির্বাচিত সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। এই ব্যবধান দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক বাড়তে পারে।

পিউয়ের জরিপ জনমতের চিত্র তুলে ধরে; এটি ভবিষ্যতে দাঙ্গা, রাজনৈতিক সহিংসতা বা আর্থিক বিপর্যয় ঘটবেই—এমন পূর্বাভাস দেয় না।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হলে ঝুঁকি বাড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি উৎস হলো নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের ১৫ এপ্রিল ২০২৬ প্রকাশিত বিশ্লেষণে ভি-ডেম ইনস্টিটিউট, ফ্রিডম হাউস এবং ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের মূল্যায়ন তুলে ধরে বলা হয়, এসব প্রতিষ্ঠানের সূচকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অবস্থানের অবনতি দেখা গেছে। ভি-ডেমের উদার গণতন্ত্র সূচকে ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর নেমে ০.৫৭-তে দাঁড়ায়, যা ওই মূল্যায়ন অনুযায়ী ১৯৬৫ সালের পর সর্বনিম্ন। বিশ্লেষণে আইনসভা ও বিচার বিভাগের মাধ্যমে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের মূল্যায়নকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ রাজনৈতিক বিভাজন যখন এতটাই তীব্র হয় যে প্রতিপক্ষকে বৈধ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মানতে অনীহা তৈরি হয়, তখন নির্বাচনের ফল, আদালতের সিদ্ধান্ত কিংবা সরকারি নীতির প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে গণতান্ত্রিক সূচকের অবনতি থেকে সরাসরি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না যে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের মতো দাঙ্গা ঘটবে। বরং এসব সূচক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা, জবাবদিহি এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে সতর্ক হওয়ার কারণ তুলে ধরে।

কেন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি ফ্রান্সের মতো নাও হতে পারে?

দুই দেশের ঋণ ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে মিল থাকলেও তাদের অর্থনৈতিক কাঠামো এক নয়। ফ্রান্স ইউরোজোনের সদস্য। দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি, ইউরোজোনের ঋণবাজার এবং ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্কিত।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব মুদ্রা ডলারের বৈশ্বিক গুরুত্ব থেকে সুবিধা পায়। মার্কিন সরকারি ঋণপত্র আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে ঋণের চাপ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নের সুযোগ ও আর্থিক নীতির পরিসর ফ্রান্সের মতো নয়।

দুই দেশের ঋণের বোঝা ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে মিল থাকলেও ডলারের বৈশ্বিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বাড়তি সুবিধা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু ফ্রান্সের মতো পরিস্থিতি দেশটিতে অবিলম্বে তৈরি হবে—এমন আশঙ্কার ভিত্তি নেই।

এ সুবিধা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে সব ধরনের আর্থিক বিপদ থেকে সুরক্ষিত রাখে না। ঋণের সুদ বাড়তে থাকলে, বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যর্থ হলে কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রকেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

তাহলে সামনে কী অপেক্ষা করছে?

যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের মতো একই বিপদের মুখে কি না—এর উত্তর নির্ভর করছে ‘বিপদ’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে তার ওপর। দুই দেশই উচ্চ সরকারি ঋণ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বাজেট সংকট এবং রাজনৈতিক সমঝোতার চ্যালেঞ্জের মুখে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডলারভিত্তিক আর্থিক সুবিধা তাকে কিছুটা বাড়তি সুরক্ষা দেয়। জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও সরকারি সেবার মান নিয়ে দুই দেশেই উদ্বেগ ও জনগণের অসন্তোষ রয়েছে। গণতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ে অসন্তুষ্টি উভয় দেশেই বেশি। রাজনৈতিক মেরুকরণের এই পরিস্থিতি রাজনৈতিক সমঝোতা কঠিন করতে পারে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনা সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কিন্তু ফ্রান্সে যা ঘটছে, তা যুক্তরাষ্ট্রেও ঘটবে—এমন নিশ্চিত প্রমাণ নেই। সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কা একই রকমের নয়।

প্রশ্ন হলো, দুই দেশের সরকার আর্থিক বাস্তবতা ও জনঅসন্তোষ সামাল দিতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে। ঋণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা, জনসেবার মান বজায় রাখা, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা এবং রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও সমঝোতা তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব। বিপরীতে, সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকলে অর্থনৈতিক চাপ রাজনৈতিক সংকটকে আরো গভীর করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের মতো আর্থিক ও রাজনৈতিক চাপের কিছু লক্ষণ বহন করছে, কিন্তু দুই দেশের পরিস্থিতি এক নয়। ডলারের বৈশ্বিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে বাড়তি সুযোগ দিলেও সেই সুবিধা অনন্ত নয়। ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে—তবে তা ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের অবধারিত পূর্বাভাস নয়।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, মার্কেটওয়াচ, পিউ রিসার্চ সেন্টার ও সিএনএন

ফ্রান্সে বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী মোতায়েন

ককরোচ নেতাদের ভর্ৎসনা দিল্লি হাইকোর্টের

ফরাসি বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’

অক্টোবরের শুরুতে ইরানে হামলার ছক কষেছিলেন নেতানিয়াহু, সায় দেননি ট্রাম্প

‘সর্বাত্মক যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ ইরান

সিনাই বলে কিছু থাকবে না, মিসরকে ইসরাইলি মন্ত্রীর হুমকি

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না: ইরান

মোদির ছবি যুক্ত করে রাবনের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ

মিয়ানমারের ব্যাপারে নীতি বদলাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, কীসের ইঙ্গিত

ইউরোপজুড়ে উগ্রপন্থার উত্থান, দুর্বল হচ্ছে মধ্যপন্থি রাজনীতি