হোম > বিশ্ব

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি সত্যিই ইসরাইলের দখলদারিত্বের বিরোধী

মিডল ইস্ট মনিটরের বিশ্লেষণ

আতিকুর রহমান নগরী

ছবি: এনবিসি নিউজ

মার্কিন পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা পুনর্নির্মাণ কূটনৈতিক ও অধিকার গোষ্ঠীর কাছে যথেষ্ট আপত্তির সম্মুখীন হচ্ছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের মধ্যে দশ লাখ ফিলিস্তিনিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি নতুন আবাসিক এলাকায় স্থানান্তরিত করা হতে পারে। এরমাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের গাজার সামরিক অধিকৃত অঞ্চলে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করা হবে।

প্রস্তাবটির কথা উল্লেখ করে একজন আরব কূটনীতিক বলেন, ‘ফিলিস্তিনিরা হয়তো হামাসের শাসনের অধীনে থাকতে চাইবে না, কিন্তু তারা ইসরাইলি দখলদারিত্বের অধীনে বসবাস করতে এবং তাদের ৭০ হাজার ভাইকে হত্যার জন্য দায়ী দলটির নিয়ন্ত্রণে থাকতে ইচ্ছুক হবে, এই ধারণাটি কল্পনাপ্রসূত।’

যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইহুদি উপনিবেশকারীদের কাছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা এখন গাজার ফিলিস্তিনিদের সামরিক দখলদারিত্বের অধীনে বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে আপত্তি তুলছে। হয়তো এই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, যারা এই পরিকল্পনার অংশ, তারা ভুলে গেছে যে গাজার ফিলিস্তিনিরা, দখলকৃত পশ্চিম তীরের মতোই এরইমধ্যে সামরিক দখলদারিত্বের অধীনে বসবাস করেছে। ইসরাইলি গণহত্যার কারণেই শুধু কূটনীতিকরা এই মার্কিন পরিকল্পনাকে কাল্পনিক বলছেন তা নয়, বরং এটি ঔপনিবেশিক প্রক্রিয়া যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় প্রশ্ন করতে চায় না।

গণহত্যা অবশ্যই গাজায় সামরিক দখলদারিত্বকে সহজতর করতে পারে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় রয়ে গেছে এবং এই ভূখণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু গাজার ফিলিস্তিনিরা যদি গণহত্যার কারণে সামরিক দখলদারিত্বের অধীনে থাকতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কি পশ্চিম তীরের সামরিক দখলদারিত্বকে স্বাভাবিক করার জন্য আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে? যা ইতোমধ্যেই বিদেশী দাতাদের ‘অলীক ফিলিস্তিন’ রাষ্ট্র গঠনে অর্থ প্রদানের কারণে আড়াল হয়ে গেছে?

পশ্চিম তীর ইসরাইলের সামরিক দখলদারিত্বে রয়েছে এবং এটা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো প্রশ্ন নেই। তাহলে গাজায় সামরিক দখলদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন কেন? যদি গণহত্যাই কারণ হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত গণহত্যার বিষয়টি সমাধান করা এবং ইসরাইলকে জবাবদিহির আওতায় আনা। যদি গণহত্যাই কারণ হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে পশ্চিম তীরে সামরিক দখলদারিত্বকে অনুমোদন করছে?

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে যখন ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়, তখন অসংখ্য ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হন, নিহত হন অনেকে। তবে এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন বা আপত্তি নেই।

যদি গাজায় সামরিক দখলদারিত্বের বিরোধিতা থাকে এবং পশ্চিম তীরে না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গাজায় সামরিক দখলদারিত্বকে স্বাভাবিক করা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। যেমনটি তারা আগেও করেছিল, পশ্চিম তীরের ক্ষেত্রে।

আরএ

সৌদি আরব ও বাহরাইনকে সংযুক্তকারী সেতু পুনরায় চালু

হামলা ও নিষেধাজ্ঞা বন্ধের শর্তসহ ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব

ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় নিহত অন্তত ১৮

রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলা, নিহত ৩

ইরানের রেল নেটওয়ার্ককে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা ইসরাইলের

‘তোমরা ইতিহাস গড়েছ’, আর্টেমিস নভোচারীদের প্রশংসায় ট্রাম্প

ইরাকি কুর্দিস্তানের ইরবিল বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ

ঈদুল আজহায় ছয় দিনের সরকারি ছুটি অনুমোদন

ট্রাম্পকে অপসারণে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের

চাঁদের খুব কাছ দিয়ে আর্টেমিস, পরবর্তী লক্ষ্য সূর্যগ্রহণ