ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, তাদের ড্রোনের কারণে রাশিয়ার আকাশসীমা ‘সম্পূর্ণ অনিরাপদ’ হয়ে পড়েছে।
জেলেনস্কির এই মন্তব্যের জবাবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে দেওয়া এক ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার আকাশপথ ব্যবহারকারী প্রতিটি বিমান সংস্থা, প্রতিটি বিমা প্রতিষ্ঠান এবং যারা এখনো রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলো ব্যবহার করছে— তাদের সবাইকে আমরা সতর্ক করতে চাই, রাশিয়ার আকাশপথ সম্পূর্ণ অনিরাপদ হয়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন বেসামরিক বিমান চলাচলের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি দিচ্ছে না— একটিও বেসামরিক বিমানকে নয়। তবে রাশিয়ার আকাশে এমন বিপুলসংখ্যক ড্রোন থাকবে, যার বিষয়টি সবাইকে বিবেচনায় নিতে হবে।’
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় ড্রোনের কারণে রাশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে বারবার বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। একই সময়ে এসব ড্রোন হামলার সংখ্যাও বেড়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘ড্রোনে ভরা আকাশ বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য নিরাপদ নয়। যুদ্ধ যতদিন চলবে, ততদিন রাশিয়ার আকাশ ড্রোনের দখলেই থাকবে।’
জেলেনস্কির মন্তব্যের জবাবে পুতিন জেলেনস্কির মন্তব্যকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের ঘোষণা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
টেলিভিশনে প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, ‘তারা আমাদের আবার আলোচনায় বসতে বলছে... কিন্তু সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আলোচনা করা যায় না।’
উভয় পক্ষের অবস্থান কঠোর হওয়ার মধ্যে রাশিয়ার নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমরা ইউক্রেনে নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি চাই না। এ কারণেই আমরা আমাদের অংশীদারদের সতর্ক করছি— রাশিয়ার আকাশে নিরাপদ দিন শেষ হয়ে গেছে।’
রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত গোলাবারুদের ঘাটতি থাকায় এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কিয়েভকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন অবকাঠামো, বন্দর এমনকি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদামেও হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।
রাশিয়ার ভেতরেও ইউক্রেনের হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে পুতিন তার ভাষণে স্বীকার করেন।
পুতিন বলেন, ‘শত্রুপক্ষ আমাদের তেল শোধনাগারসহ বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা শুরু করেছে।’
এতে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না— এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাবে বলেন, ‘হ্যাঁ, হয়েছে।’
পুতিন আরো বলেন, এসব স্থাপনা সুরক্ষিত ছিল না, তাই ক্ষতি হয়েছে।
তবে পুতিন দাবি করেন যে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া এগিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: বাসস
আরএ