সৌদি শিক্ষার্থীদের নকশা ও নির্মিত দুইটি উপগ্রহ আন্তর্জাতিক মহাকাশ মিশনের অংশ হিসেবে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে শনিবার এক ঘোষণায় জানিয়েছে সৌদি স্পেস এজেন্সি।
সৌদি প্রেস এজেন্সি–এসপিএ প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, উপগ্রহ দুটি উম্ম আল-কুরা বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্স সুলতান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি। এগুলো ছোট উপগ্রহ নির্মাণ ও নকশার প্রতিযোগিতা ‘সারি’ (এসএআরআই)-র অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতায় সৌদি আরবজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। ৪২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোট ৪৮০টি প্রকল্প জমা পড়লেও শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি প্রকল্প উৎক্ষেপণের জন্য নির্বাচিত হয়।
স্পেস এজেন্সির মতে, প্রতিযোগিতার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে স্যাটেলাইট নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রদান করা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত—এসটিইএম খাতে তাদের দক্ষতা আরও উন্নত করা।
২০২৩ সালের মে মাসে সৌদি নভোচারী রায়ানাহ বারনাবি ও আলী আল-কারনি এক্সিওম মিশন ২-এর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ভ্রমণ করার পর থেকে সৌদি আরবে মহাকাশবিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তারা পেগি হুইটসন এবং জন শফনারের সঙ্গে স্পেসএক্সের ড্রাগন ক্যাপসুলে করে আইএসএসে পৌঁছেছিলেন, যেখানে সাতজন নভোচারী—যাদের মধ্যে একজন আমিরাতি ছিলেন—তাদের স্বাগত জানান।
এরও বহু আগে, ১৯৮৫ সালের জুনে প্রিন্স সুলতান বিন সালমান আল সউদ স্পেস শাটল ডিসকভারি-র এসটিএস-৫১জি মিশনে অংশ নিয়ে মহাকাশে গমনকারী প্রথম আরব হিসেবে ইতিহাস গড়েন।
সৌদি শিক্ষার্থীদের নির্মিত উপগ্রহ দ্বয়ের সফল উৎক্ষেপণ দেশের মহাকাশ কর্মসূচির নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি ভবিষ্যতে সৌদি যুব সমাজকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: আরব নিউজ
এসআর