হোম > বিশ্ব

ইসলামাবাদে আজ বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা

ইরান যুদ্ধ বন্ধ

আমার দেশ অনলাইন

ছবি : সংগৃহীত

যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে করণীয় ঠিক করতে আজ শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে অংশ নিতে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। রাতের মধ্যে পৌঁছানোর কথা আমেরিকার প্রতিনিধিদলেরও। এদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইল লেবাননে হামলা চালালেও বহুল প্রত্যাশিত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। তবে ওই হামলা অব্যাহত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি নিয়েও আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত বৈঠক কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে, উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ বৈঠক ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। বৈঠকের নির্ধারিত ভেন্যু ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে যাওয়ার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শহরজুড়ে বিপুলসংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি।

ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাশেই অবস্থিত সেরেনা হোটেলকে আলোচনার ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে হোটেলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন।

ইসলামাবাদ বৈঠকে দুপক্ষে থাকছেন যারা

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আজ অনুষ্ঠেয় বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার। এছাড়া অন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ইরানি প্রতিনিধিদলের আরেক প্রভাবশালী মুখ পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।

এদিকে, বৈঠক ঘিরে ইসলামাবাদে দুদিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মূলত নিরাপত্তা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজর অসিম মালিক উপস্থিত থাকবেন। আলোচনা কয়েকদিন ধরে চলবে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তায় ফেলেছে ইসরাইলি হামলা

ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখায় যুদ্ধবিরতি কতক্ষণ কার্যকর থাকবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩০০ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার। সব মিলিয়ে চলমান এ যুদ্ধে লেবাননে প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, লেবাননেও যুদ্ধ বন্ধ থাকবে। ইসরাইল তা অস্বীকার করে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যা যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সমস্যা সমাধানে লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে লেবানন সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ চলাবস্থায় কোনো যুদ্ধবিরতি হবে না, আগে আক্রমণ বন্ধ করতে হবে। এ ইস্যুতে ইরান লেবাননের পাশে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বলছে, যুদ্ধবিরতির আওতায় অবশ্যই লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া লেবাননের ওপর ইসরাইলের বর্বর হামলার নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।

লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে দেইর কানুন রাস আল-আইন শহরে ইসরাইলি বিমান হামলায় বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের ১৮ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানে এক লাখ ২৫ হাজারের বেশি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে সংস্থাটির প্রধান পীর হোসেইন কলিভান্দ বলেন, হামলায় মোট এক লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক ইউনিট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে ২৩ হাজার ৫০০টি বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া ৩৩৯টি চিকিৎসাসংক্রান্ত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও জরুরি সেবাকেন্দ্র রয়েছে। অপরদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঙ্গে রেড ক্রসের ২০টি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে। এগুলোর পাশাপাশি ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা করা হয়েছে, যার মধ্যে আছে পাঁচটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর ও বেসামরিক বিমান।

অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া গতকাল ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে, এই ৪০ দিনে ইরানের ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে, যা বাংলাদেশি অর্থে ১৮ লাখ কোটি টাকার সমান।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যানুযায়ী, এসব হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ, শারাউদের পাশাপাশি ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হরমুজ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দুপক্ষ

যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানের ১০ দফা শর্তে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালি পার হতে প্রত্যেক জাহাজকে টোল দিতে হবে এবং সে টোল ইরানের নিজস্ব মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। তেহরান এ ব্যাপারে খুবই শক্ত অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে লেবাননে হামলার প্রতিবাদে প্রণালি চালু করছে না ইরান। ফলে যুদ্ধবিরতির তিন দিন পার হলেও কার্যত এখনো বন্ধই রয়েছে হরমুজ।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান যেন কোনো ধরনের টোল আদায় না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ সতর্ক বার্তা দেন। ইরান বলছে, সব নিয়ম মানলে ও কোনো ধরনের সহিংসতা সৃষ্টি না করলে মার্কিন জাহাজগুলো হরমুজ ব্যবহার করতে পারবে।

বিবিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর অন্তত ৯টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

আলোচনার ভিত্তি হবে ইরানের ১০ দফা

ইরানের ১০ দফা পরিকল্পনাই পাকিস্তানে আসন্ন আলোচনার ভিত্তি হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সম্মতি এসেছে বলে তিনি জানান। তেহরানে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক মিশনের প্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বৈঠকে তাখত-রাভানচি বলেছেন, ইরান সব সময় কূটনীতি ও সংলাপকে স্বাগত জানায়। তবে তা এমন কোনো সংলাপ নয়, যা ভুয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক আগ্রাসনের পথ তৈরি করবে। তিনি আরো বলেন, আমরা এমন কোনো যুদ্ধবিরতি চাই না, যা আগ্রাসী পক্ষকে পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে আবার হামলা চালানোর সুযোগ করে দেবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি অকার্যকর

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞের মতে, এসব ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা এতটা নাজুক যে, এগুলো এখন উপকারের চেয়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য উল্টো ঝুঁকি তৈরি করছে। গত মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে প্রথম জানানো হয়েছিল, ইরানের হামলার পর ঘাঁটিগুলো এখন প্রায় বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতার কথা স্বীকার করেনি।

ইরান সৎ থাকলে হাত বাড়াতে প্রস্তুত : জেডি ভ্যান্স

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এ আলোচনা ইতিবাচক হবে বলে তিনি আশাবাদী। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দিতে পাকিস্তান সফরে যাওয়ার আগে ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন জেডি ভ্যান্স। তিনিও তেহরানের সঙ্গে আসন্ন আলোচনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যদি ইরানিরা সৎ মনোভাব নিয়ে আলোচনা করতে চায়, আমরা অবশ্যই উন্মুক্ত হাত বাড়াতে প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বা যুদ্ধবিরতি-একটি বেছে নিতে হবে

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেছেন, লেবাননে চলমান ইসরাইলি হামলা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির শর্তের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ অথবা যুদ্ধবিরতি- যেকোনো একটি বেছে নিতে হবে। গত বৃহস্পতিবার বিবিসির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ইসরাইলে সাত হাজার মানুষ আহত

যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলের দিকে প্রায় ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এসব হামলায় ২৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল। আহত হয়েছে সাত হাজারের বেশি ইসরাইলি। ইসরাইলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হতাহতের এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের সাথে আলোচনায় কোন বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাবে জানালেন ট্রাম্প

প্রশান্ত মহাসাগরে আজ অবতরণ করবে আর্টেমিস-২

শান্তিচুক্তি হলেও জ্বালানির দাম কমতে কয়েক মাস লাগতে পারে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চুক্তি নিশ্চিতে সবকিছু করতে প্রস্তুত পাকিস্তান

মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে লেবানন-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি আলোচনা

আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে গেলেন ইরানের যে শীর্ষ নেতারা

ইরানের নেতাদের শুধু আলোচনার জন্য বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে: ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা একটি বাঁচা-মরার লড়াই: শাহবাজ শরিফ

আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর নতুন হামলার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের শর্ত অবশ্যই রক্ষা করতে হবে: আরাগচি