যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান টার্নার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটিমাত্র দেশের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ রয়েছে। আর সে দেশটি হলো ইসরাইল।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিষয়ে শিক্ষার্থীদের একটি দলকে তিনি একথা বলেছিলেন।
এই মন্তব্য প্রথম প্রকাশিত হয় মঙ্গলবার ফাইনান্সিয়াল টাইমসে, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়া রাজা তৃতীয় চার্লসের হোয়াইট হাউসে পৌঁছানোর ঠিক আগে। এই সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘এই মন্তব্য ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক। এটি সঙ্গে সরকারের অবস্থানের প্রতিফলন নয়।
যুক্তরাষ্ট্র সফররত যুক্তরাজ্যের ষষ্ঠ-শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ানের বৈঠকের অডিও রেকর্ডিং ফাঁস হয়েছে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বিশেষ সম্পর্ক এমন একটি শব্দবন্ধ যা আমি উচ্চারণ না করার চেষ্টা করি, কারণ এটি বেশ স্মৃতিবিধুর, বেশ অতীতমুখী এবং এর সঙ্গে অনেক কিছু জড়িয়ে আছে।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সম্ভবত একটি দেশ আছে যার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে, এবং সেটি সম্ভবত ইসরাইল।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে সম্পর্ক যখন তলানিতে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশেষ সম্পর্ক’ জোরদার করার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা রাজার জন্য এটি একটি অস্বস্তিকর সময়।
রেকর্ডিংটিতে ক্রিশ্চিয়ান আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ‘গভীর ইতিহাস ও সখ্যতা’ রয়েছে, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে। এমন কিছু কাজ আছে যা আমরা একসঙ্গে করি, যা অন্য কেউ করে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র ‘বিচ্ছিন্ন হওয়ার সন্ধিক্ষণে’ রয়েছে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, বরং আমরা একটি যুগের শেষ প্রান্তে আছি এবং যুগটি পরিবর্তিত হচ্ছে।’
তার মতে, ‘আমরা ইউরোপে শুধু মার্কিন নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করতে পারি না। তাই সম্পর্কটি, যদি আপনি চান, বিশেষ হিসেবেই চলবে, কিন্তু আমার মনে হয় এটিকে ভিন্ন হতে হবে।’
একজন পেশাদার কূটনীতিক ক্রিশ্চিয়ানকে গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।
সূত্র: বিবিসি
আরএ