উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে রাশিয়ার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে যুক্তরাজ্য। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে রাশিয়া।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ব্রিটেন ও আইসল্যান্ডের মধ্যবর্তী সমুদ্রসীমায় ‘বেলা-১’ নামের জাহাজটিকে আটকাতে সহায়তা করেছে ব্রিটিশ সশস্ত্র বাহিনী। জাহাজটি সম্প্রতি নাম পরিবর্তন করে ‘মারিনেরা’ রেখেছিল। এর আগে গত মাসে ভেনেজুয়েলার কাছে এটি একবার আটকের হাত থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, রয়্যাল নেভির একটি যুদ্ধজাহাজ মার্কিন বাহিনীকে ট্যাংকারটি ধাওয়া ও আটকে সহায়তা করে এবং রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) বিমান আকাশ থেকে নজরদারি চালায়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই সহযোগিতা করা হয়েছে এবং যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিশ্বের অন্যতম ঘনিষ্ঠ।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল এবং শুরুতে ভুয়া পতাকা ব্যবহার করছিল। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, জাহাজটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও অপরাধী চক্রের যোগসূত্র রয়েছে, যার মধ্যে ইরান সমর্থিত লেবানিজ গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও আছে। নজরদারি এড়াতে ট্যাংকারটি তাদের অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র বন্ধ রেখেছিল এবং ধাওয়ার সময় পতাকা পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এক বিবৃতিতে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের ‘ছায়া নৌবহর’ বা নিয়মবহির্ভূত জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। পরে পার্লামেন্টে তিনি জানান, অভিযানের সময় কোনো ব্রিটিশ সেনা সরাসরি জাহাজে ওঠেননি। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও অভিযানটি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালনার জন্য তিনি মার্কিন বাহিনীর প্রশংসা করেন।
এদিকে জানা গেছে, এই অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দিয়েছে ব্রিটেন।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
এসআর/এসআই