যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে এ ধরনের ৩৫ হাজার ৭৬৭টি আবেদন বাতিল করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এ সময়ে জমা পড়া আবেদনের প্রায় ৪৪ শতাংশই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। আগের দুই প্রান্তিকে এ হার ছিল প্রায় ২৫ শতাংশ। ফলে গ্রিন কার্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে আগ্রহী বিদেশিদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভারতের ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কাজের অনুমতির জন্য মোট ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৯টি আবেদন পেয়েছে। এর মধ্যে ৪৬ হাজার ৪০৫টি অনুমোদন এবং ৩৫ হাজার ৭৬৭টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। অন্য আবেদনগুলোর চূড়ান্ত অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
গ্রিন কার্ডের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের কাজের অনুমতি পেতে গড়ে ৬ দশমিক ৪ মাস সময় লাগছে। ওই সময়ে এ ধরনের ৬ লাখ ৭১ হাজার ৩৬২টি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল।
অভিবাসনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও আবেদন বাতিলের চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসাসহ বিভিন্ন শ্রেণির আবেদনে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৪৮টি অনুমোদনের বিপরীতে ৩৯ হাজার ৫৬০টি আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের আবেদনে প্রত্যাখ্যানের হার ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসী কর্মীদের আবেদনে এ হার প্রায় ১৬ শতাংশ হলেও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে তা ছিল প্রায় ৭ শতাংশ।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনেও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে ১ লাখ ৪০ হাজার ১৭৯টি আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এর মধ্যে ৫৪ হাজার ৯৭৪টি অনুমোদন এবং ১২ হাজার ৫৯১টি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। আগের দুই প্রান্তিকে প্রত্যাখ্যানের হার প্রায় ১৩ শতাংশ থাকলেও সর্বশেষ প্রান্তিকে তা বেড়ে ১৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এ সময়ে নাগরিকত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিলেন ৭ লাখ ২৭ হাজার ৩৭১ জন। আবেদন নিষ্পত্তিতে গড়ে ৯ দশমিক ৫ মাস সময় লাগছে।
অভিবাসনসংক্রান্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রেও নতুন পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। ১৬ অক্টোবর থেকে আশ্রয়, কাজের অনুমতি এবং সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদার আবেদনের ফি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইউএসসিআইএসের।
এর পাশাপাশি, পড়াশোনা শেষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ দিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ৭০ হাজার ডলার ফি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। এ কর্মসূচির মেয়াদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। প্রস্তাবগুলো কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ব্যয় আরও বাড়তে পারে।