বিশ্বব্যাপী ২৪ ঘণ্টার টেলিভিশন সংবাদ সম্প্রচারের নতুন যুগের সূচনা করা কিংবদন্তি মিডিয়া উদ্যোক্তা টেড টার্নার মারা গেছেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় নিজ বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। টার্নার এন্টারপ্রাইজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মৃত্যুকালে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যরা তার পাশে উপস্থিত ছিলেন।
ওহাইওতে জন্ম নেওয়া টেড টার্নার আধুনিক সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী নাম। ১৯৮০ সালের ১ জুন তার হাত ধরেই যাত্রা শুরু করে বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএন (ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক)। সংবাদ পরিবেশনের প্রচলিত ধারা বদলে দিয়ে তিনি এমন এক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন, যা পরবর্তীতে বৈশ্বিক সংবাদপ্রবাহের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
প্রথমদিকে অনেকেই তার এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগকে অবাস্তব বলে মনে করেছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে সিএনএন নিজেকে বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে চ্যানেলটি আন্তর্জাতিক সংবাদ পরিবেশনে নতুন ইতিহাস রচনা করে। ওই বছরই টেড টার্নারকে টাইম ম্যাগাজিন ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
স্পষ্টবাদী বক্তব্যের জন্য ‘মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামে পরিচিত টার্নার ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন ব্যতিক্রমী। মাত্র ২৪ বছর বয়সে বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক বিলবোর্ড ব্যবসার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন বিশাল মিডিয়া সাম্রাজ্য।
জীবনের শেষ অধ্যায়ে তিনি কঠিন শারীরিক সমস্যার মুখোমুখি হন। ২০১৮ সালে টার্নার প্রকাশ করেন, তিনি লিউই বডি ডিমেনশিয়া নামের জটিল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত। দীর্ঘদিন এই অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই তিনি জীবন কাটিয়েছেন।
টেড টার্নারের মৃত্যু শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার বিদায় নয়, বরং বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি।
এআরবি