হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

বৈঠকের মাঝে ট্রাম্পকে বার বার ফোন ভ্যান্সের

আমার দেশ অনলাইন

ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি আজ রোববার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে তাঁর আলোচনাকারী দল পাকিস্তান ত্যাগ করছে। আজ ভোরের দিকে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স এই অবস্থান জানান। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ভ্যান্স জানান, আলোচনা চলাকালীন তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত ছয়বার কথা বলেছেন।

ভ্যান্স আলোচনার ত্রুটিগুলো উল্লেখ করে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তসহ আমেরিকার দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি’।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি (চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা) যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। সুতরাং, আমরা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমাগুলো কী, তা আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।’

ইসলামাবাদের এই আলোচনা ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম সরাসরি মার্কিন-ইরান বৈঠক এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের আলোচনা। এই আলোচনার ফলাফল ভঙ্গুর দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ভাগ্য এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান বন্ধ করে রেখেছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ইরান সরকার জানিয়েছে, আলোচনা শেষ হয়েছে এবং উভয় পক্ষের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা নথিপত্র আদান-প্রদান করবেন। পোস্টে আরও বলা হয়, ‘কিছু মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে’, তবে কবে নাগাদ তা পুনরায় শুরু হবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বিরতিতে যাওয়ার আগে ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে দুই ঘণ্টা বৈঠক করেন।

ইরানি প্রতিনিধি দল গত শুক্রবার কালো পোশাক পরে পাকিস্তানে উপস্থিত হয়, যা প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং যুদ্ধে নিহত অন্যদের শোকের প্রতীক। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা একটি সামরিক কম্পাউন্ডের পাশের স্কুলে মার্কিন বোমাবর্ষণে নিহত কয়েকজন শিক্ষার্থীর জুতা ও ব্যাগ সাথে নিয়ে এসেছিলেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, ওই হামলার বিষয়টি তদন্তাধীন। তবে রয়টার্স প্রতিবেদন করেছে, সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন এই ঘটনার জন্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী।

প্রথম দফার আলোচনার প্রেক্ষাপটে অন্য একটি পাকিস্তানি সূত্র জানায়, ‘দুই পক্ষের মধ্যেই মেজাজের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে এবং বৈঠকের সময় পরিস্থিতির উত্তাপ বারবার ওঠানামা করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার জন্য ২০ লাখেরও বেশি মানুষের শহর ইসলামাবাদকে হাজার হাজার আধাসামরিক বাহিনী এবং সেনা মোতায়েন করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা দেশটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, কারণ এক বছর আগেও দেশটি কূটনৈতিকভাবে একঘরে অবস্থায় ছিল।

আলোচনা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন পরিষ্কার করার কাজ শুরু করার জন্য ‘শর্ত নির্ধারণ’ করছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে এই হরমুজ প্রণালী। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালীটি অতিক্রম করেছে এবং মাইন পরিষ্কারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মার্কিন জাহাজ চলাচলের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।

আলোচনা শুরুর আগে ইরানের এক উচ্চপদস্থ সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল, কাতার এবং অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা সম্পদ ছেড়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সম্মতির কথা অস্বীকার করেছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কর্মকর্তাদের মতে, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ অবমুক্ত করার পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছে। এছাড়া তেহরান হরমুজ প্রণালীতে ট্রানজিট ফি বা পারাপারের মাশুল আদায় করতে চায়।

ট্রাম্পের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোতে পরিবর্তন এলেও, নূন্যতম পক্ষ হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী নৌ-চলাচলের জন্য প্রণালীটি উন্মুক্ত রাখা এবং ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পঙ্গু করে দেওয়া নিশ্চিত করতে চান যাতে তারা পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল, যারা ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর হামলায় অংশ নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েল বলছে, ওই সংঘাত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির অংশ নয়। সব মিলিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস এখন তুঙ্গে।

হঠাৎ সবাই হাবীবীর অর্থ খোঁজা শুরু করলো যে কারণে

নিজেদের না খাইয়ে ইসরাইলিদের বিনোদনের ব্যবস্থা করছেন ট্রাম্প: কার্লসন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হতে যাওয়া কে এই হাকিম জেফ্রিস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন হিজাবধারী পাঁচ মুসলিম নারী

ইরান যুদ্ধের জেরে ক্ষীণ হচ্ছে ভ্যান্সের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ তুঙ্গে

যেসব কারণে এত বাজেভাবে হেরেছেন রিপাবলিকানরা

এখনো ঝুলে আছে প্রতিনিধি পরিষদের ২৪ আসনের ফল

আবদুল আল-সাইয়েদের স্ত্রী সারা জুকাকু, দুই মহাদেশের দুই সংস্কৃতির অনন্য সংযোগ

মূল্যস্ফীতির জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করছেন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার