রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে শিগগিরই বৈঠকের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি।
বুধবার ভোরে টেক্সাসে নির্বাচনি সমাবেশ শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, এয়ারফোর্স ওয়ানে সফরের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে আমরা অনেক অগ্রগতি অর্জন করছি। খুব শিগগিরই একটি বৈঠকের আয়োজন করা হবে।’
বৈঠকে কারা অংশ নেবেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট পুতিন ও প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।’ তবে বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়, স্থান কিংবা আয়োজনের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আবুধাবি ও জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দফা শান্তি আলোচনা হয়েছিল। তবে ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে সরাসরি বৈঠক হয়নি। ফলে ট্রাম্পের ঘোষিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলে তা হবে যুদ্ধ শুরুর পর দুই নেতার প্রথম বৈঠক।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। তবে দেশটি আলোচনা এগিয়ে নিতে দেরি করছে এবং আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি। এখন প্রশ্ন হলো, আমি কখন এটি শেষ করতে চাই।’
সংঘাত নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক অবস্থানের পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা আছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নির্বাচনের পর ইরানে আরো হামলা চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘যেকোনো কিছুই সম্ভব, তবে আমি আপনাদের বলতে পারছি না।’
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে বৃহত্তর অঞ্চলে। যুদ্ধবিরতি এবং শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সমঝোতা হলেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।
সূত্র: ইয়েনি শাফাক ও আলআরাবিয়া ইংলিশ