হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশ, নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প

দ্য গার্ডিয়ান

ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সেপ্টেম্বরে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধিসহ জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ মার্কিন ভোটারদের সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির এই পরিসংখ্যান ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

বুধবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। মে মাসে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছিল। এরপর সেপ্টেম্বরে আবারও মূল্যবৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই মূল্যস্ফীতি নিয়ে সরকারের সর্বশেষ প্রতিবেদন। বিভিন্ন জনমত জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। ১৯৯০ সালের পর থেকে মহামারির সময় বাদ দিলে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির এই হার সর্বোচ্চ।

সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধির অর্ধেকের বেশি এসেছে পেট্রলের দাম থেকে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় পেট্রলের দাম বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। শীতকালে বাড়িঘর গরম রাখতে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। ছুটির সময়ে যাতায়াতের জন্য অনেক মার্কিন নাগরিকের ব্যবহৃত আকাশপথের ভাড়াও বেড়েছে ২২ দশমিক ৪ শতাংশ।

আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে ভোক্তাপণ্যের সামগ্রিক দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থিতিশীল দামের খাত বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতিও সেপ্টেম্বরে বেড়েছে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। এতে বার্ষিক মূল মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৬ শতাংশে।

চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ। এ সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে পেট্রলের গড় দাম গত বছরের তুলনায় এখনো প্রতি গ্যালনে এক ডলারের বেশি। এদিকে অভ্যন্তরীণ পণ্য সরবরাহব্যবস্থায় ব্যবহৃত ডিজেলের দাম গত মাসে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল।

ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২০ ডলারের বেশি। সব মার্কিন ভোক্তার সম্মিলিত অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ ১৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার।

রয়টার্স ও ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, তাদের আয়ের চেয়ে দ্রুত মূল্যস্ফীতি বাড়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি দায়ী। ট্রাম্পের সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যেও ৫৭ শতাংশ একই মত দিয়েছেন। কংগ্রেস ও হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানদের জন্য এ পরিস্থিতি নির্বাচনের আগে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মূল্যবৃদ্ধির জন্য নিজের প্রশাসনের ভূমিকা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করছেন। সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পরিকল্পিতভাবে সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে।

তিনি লেখেন, ‘তারা আবারও সক্রিয় হয়েছে। সম্ভবত ইরানের নির্দেশে, অত্যন্ত খারাপভাবে সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তেলের দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে, সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে। এটা মোটেও ভালো নয়।’

একই দিন আলাস্কার ওয়াসিলা শহরে এক সমাবেশে নিজের অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে সাফাই দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পরিবারগুলোর জন্য তার সরকারের সহায়তা ‘ব্যাপক’।

তার ভাষায়, ‘যখনই তারা আমাকে আক্রমণ করতে চায়, তখনই বলে—জীবনযাত্রার ব্যয়।’

মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় দাম নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপও বাড়বে। মূল্যবৃদ্ধি বেশি থাকায় গত মাসে ফেড ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছিল।

সুদের হার বাড়লে বাড়ি কেনার ঋণসহ বিভিন্ন ধরনের ঋণের খরচ বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার জন্য বহুল ব্যবহৃত ৩০ বছর মেয়াদি বন্ধকি ঋণের সুদের হার বেড়ে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান কুইল্টার শেভিয়টের স্থির আয়ের গবেষণাপ্রধান রিচার্ড কার্টার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা।’

কার্টার আরো বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সুদের হার কমানোর অনুকূল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এমনকি রাশিয়ার ডিজেল আবারও বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার মতো পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে চাপে রাখায় এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট হচ্ছে না এবং অনেক দেরি হয়ে গেছে।

এএম

তরুণদের ক্ষতি করছে চ্যাটজিপিটি, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্যে মামলা

তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে মারা উচিত: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৬ জন নিহত

মানবাধিকার সংগঠনকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবে না ট্রাম্প প্রশাসন, আদালতের রায়

গ্রিনল্যান্ডে তেল-গ্যাস ও খনিজ অনুসন্ধান শুরুর ঘোষণা ট্রাম্পের

ট্রাম্পের নির্দেশে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ‘নীল ঢেউ’, ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পথে বাধা

ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ সম্বোধন করে বিব্রত প্রেস সচিব

ইরানি নেতাদের হত্যায় অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে, ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি

কঠিন জনপদে কোমলতা খুঁজে ফেরার গল্প