হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রে, রাজনৈতিক অর্থের দাপট কেন

আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনগুলোর একটি। প্রতি নির্বাচনি মৌসুমে প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনও ব্যয়ের নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যয় এত বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রচারণার ওপর বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচের সুযোগ। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্রচার, জনমত জরিপ ও মাঠপর্যায়ের প্রচারে কোটি কোটি ডলার ব্যয় করা হয়।

এ ক্ষেত্রে শুধু প্রার্থীরাই অর্থ ব্যয় করেন না। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ধনী ব্যক্তি, রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীও নির্বাচনে বিপুল অর্থ ঢালে। বিশেষ করে প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক প্রচারণার বাইরে থাকা সংগঠনগুলো তুলনামূলকভাবে কম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থেকে নিজেদের পছন্দের প্রার্থী বা রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের ২০১০ সালের ‘সিটিজেনস ইউনাইটেড’ রায়ের পর রাজনৈতিক ব্যয়ের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হয়। ওই রায়ের ফলে করপোরেশন ও বিভিন্ন সংগঠনের স্বাধীন রাজনৈতিক ব্যয়ের সুযোগ বাড়ে। এরপর থেকেই মার্কিন নির্বাচনে বড় অঙ্কের অর্থপ্রবাহ আরও দ্রুত বেড়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল নির্বাচন। আর ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রাজনৈতিক ব্যয় প্রায় ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে অ্যাডইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস রয়েছে। এই অঙ্ক ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রায় ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের চেয়েও বেশি এবং ২০২৪ সালের ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন চক্রকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি ব্যবস্থার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো—নির্বাচনি প্রচারণা দীর্ঘ সময় ধরে চলে। ফলে প্রার্থীদের দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন, কর্মী, জনসংযোগ ও তহবিল সংগ্রহে অর্থ ব্যয় করতে হয়।

সমালোচকদের আশঙ্কা, নির্বাচনে বিপুল অর্থের ব্যবহার রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়িয়ে দেয়। বড় অর্থদাতারা নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারেন। এতে সাধারণ ভোটারের মতামতের পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী গোষ্ঠীর স্বার্থও রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে পারে।

মার্কিন নির্বাচনব্যবস্থায় অর্থের এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে তাই দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিপুল অর্থের প্রতিযোগিতা কি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ বাড়াচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতাকে আরও বেশি ধনী ব্যক্তি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত করছে?

সূত্র: মিডল ইস্ট আই, জিজিরো মিডিয়া ও ক্যাম্পেইনস এন্ড ইলেকশনস

পেরুতে মেয়র নির্বাচিত ‘হিটলার মুসোলিনি’

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনা হতাহতের হিসাব সংশোধন পেন্টাগনের

ট্রাম্পের কারণে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকিতে রিপাবলিকানরা

জি-২০ জোটের সম্মেলন ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের

ট্রাম্পের সংবাদ প্রচার বন্ধ করায় পাঁচ টিভি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতে নিহত ৪, বিদ্যুৎহীন ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে অতর্কিত গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও দুই শিশুসহ নিহত ৮

শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম আগে কখনো শুনিনি: ট্রাম্প

পানামায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত

বিপর্যয়কর ইরান যুদ্ধের খেসারত দিচ্ছে জনগণ, ট্রাম্পকে দুষলেন ডেমোক্র্যাটরা