যদি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দ্বীপটি না দেওয়া হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশের ওপর সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে—প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকিকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় নেতারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সতর্ক করেছেন, এই হুমকি আটলান্টিকপারের সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হওয়ায়, ডেনমার্কসহ ব্রিটেন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে ও সুইডেন শনিবার ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ব্রাসেলসে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শুল্কের হুমকি একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী সর্পিল পরিস্থিতির ঝুঁকি তৈরি করে।”
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন বলেন, ট্রাম্পের হুমকি বিশ্বব্যবস্থার স্থিতিশীলতাকে ও ন্যাটো সামরিক জোটের ভবিষ্যতকেও হুমকির মুখে ফেলে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে জানিয়েছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং দাভোস সম্মেলনে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার আশা করছেন।
ইউরোপীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, রোববার ব্রাসেলসে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের বৈঠক শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি শীর্ষ সম্মেলন ডাকা হবে।
ট্রাম্পের হুমকি অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ড থেকে আসা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে, যা ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশে বৃদ্ধি পাবে। ট্রাম্প বলেছেন, এটি গ্রিনল্যান্ডের “সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক ক্রয়” চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
ইউরোপীয় নেতারা শুল্ক বৃদ্ধিকে বিপজ্জনক, অযৌক্তিক ও রাজনৈতিক ‘ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, এটি “সম্পূর্ণ ভুল” এবং তিনি দ্রুত ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ফান উইল শুল্ক হুমকিকে “অব্যাখ্যাযোগ্য” এবং ব্ল্যাকমেইল হিসেবে অভিহিত করেছেন। ফরাসি কৃষিমন্ত্রী আনি জেনেভার্ড সতর্ক করে বলেছেন, শুল্ক আরোপ করলে যুক্তরাষ্ট্রকেও ক্ষতি হবে।
এদিকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে জানিয়েছেন, “বাণিজ্য যুদ্ধ এড়িয়ে চলা জরুরি, কারণ এতে কেউ জয়ী হবে না।”
শুল্ক হুমকির উত্তরে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে হাজারো মানুষ প্রতিবাদ করেছে। ট্রাম্পের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিলে তা দেশটির “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে” হবে, বিশেষ করে রাশিয়া বা চীনের সম্ভাব্য হুমকি প্রতিহত করতে। ইউরোপীয় নেতারা এই হুমকিকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিশ্ববাণিজ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ মনে করছেন।
এসআর