যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে জ্বলছে ভয়াবহ দাবানল। ডেনভারের দক্ষিণ-পশ্চিমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে বাধ্য হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। দক্ষিণ কলোরাডোতে জোরালো বাতাসের কারণে আগুন আরো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৪০টি বড় দাবানল জ্বলছে। এর মধ্যে অ্যাসপেন অ্যাকার্স ফায়ার (নামে পরিচিত আগুনটি এক রাতেই আরো ৪৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত এটি মোট ২৭২ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়িয়ে দিয়েছে।
এই আগুনে ১৬০টিরও বেশি বাড়ি ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েক মাসের শুষ্ক আবহাওয়া এবং এ বছর স্বাভাবিকের তুলনায় খুব কম তুষারপাত হওয়ায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনও এ ধরনের দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ কলোরাডো সিটির প্রায় দুই হাজার ২০০ বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বিউলা, রাই ও সান ইসাবেল এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে যেতে বলা হয়েছে।
আগুনের ধোঁয়ার কারণে যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে। জরুরি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইন্টারস্টেট-২৫ সড়কের কিছু অংশে ধোঁয়ার কারণে দৃশ্যমানতা মাত্র আধা মাইল পর্যন্ত নেমে এসেছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কলোরাডো ন্যাশনাল গার্ডের প্রায় ৫০ জন সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে। তারা পুয়েবলো ও কাস্টার কাউন্টির বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট পরিচালনা করছেন এবং পুয়েবলো রিজার্ভারে নৌকা চলাচল বন্ধ রাখতে সাহায্য করছেন। সেখান থেকে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা পানি সংগ্রহ করে আগুন নেভানোর কাজ করছেন।
কলোরাডোর বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়া নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দাবানলের ঝুঁকির কারণে ৪ জুলাই (যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস) উদযাপনের পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
কলোরাডোর ডিভিশন অব ফায়ার প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল জানিয়েছে, আগুনের চরম ঝুঁকির কারণে অনেক আতশবাজির অনুষ্ঠান ইতোমধ্যেই বাতিল করা হয়েছে। অনেক এলাকায় আগুন জ্বালানো ও আতশবাজি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস শুক্রবারও রাজ্যের বেশিরভাগ এলাকায় রেড ফ্ল্যাগ ওয়ার্নিং (অত্যন্ত উচ্চ দাবানল সতর্কতা) বহাল রেখেছে। কারণ গরম আবহাওয়া, শুষ্ক বাতাস, কম আর্দ্রতা এবং প্রবল দমকা হাওয়া আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, সপ্তাহান্তে কিছুটা বৃষ্টি হলে আগুনের ঝুঁকি কমতে পারে। তবে বেশি বৃষ্টি হলে যেসব এলাকা আগেই আগুনে পুড়ে গেছে, সেখানে হঠাৎ বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ