ইসরাইলপন্থি মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একনিষ্ঠ মিত্র এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক অভিযানের দীর্ঘদিনের সমর্থক, সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার গভীর রাতে হঠাৎ মারা গেছেন। শনিবার তার মৃত্যু হয়। এতে ইউক্রেন ও ইসরাইলের মতো দেশগুলো কংগ্রেসে একজন একনিষ্ঠ সমর্থক এবং ট্রাম্পের কানে কথা বলার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরকে হারালো।
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি বলেছিলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও আমার অনেক কাজ বাকি।
অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনের শেষ কয়েক সপ্তাহে গ্রাহাম সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি উচ্চাভিলাষী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের সঙ্গে সর্বশেষ ফোনালাপে গ্রাহাম সম্প্রতি ইউক্রেন সফরের বিষয়ে তাকে অবহিত করেন। সফরকালে তিনি একটি সামরিক ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিল সিনেটে পাস করানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন।
ট্রাম্প পরে সাংবাদিকদের বলেন, ফোনালাপে গ্রাহামকে কিছুটা ক্লান্ত শোনালেও তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাদের মধ্যে কংগ্রেসে ভোটার পরিচয় যাচাই সংক্রান্ত সেফ অ্যাক্ট এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এদিকে, গ্রাহামের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সঙ্গে আরেকটি ফোনালাপেও তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, রোববার নির্ধারিত মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে যাবেন।
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, শেষ ফোনালাপে গ্রাহাম বলেন, এখনই আমি মরতে পারি না। এখনও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি শেষ করতে হবে, ইরান ইস্যু সমাধান করতে হবে এবং ইসরাইল-সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কাজও বাকি।
তার মৃত্যুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেন। এদিকে, সাউথ ক্যারোলাইনার গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার গ্রাহামের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য তার বোন ডারলিন গ্রাহাম নরডোনকে সিনেটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
এআরবি