পেট্রোলের দাম যথেষ্ট না কমায়, বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে সমালোচনার মুখে বুধবার তিনি এ নির্দেশ দেন।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘বড় তেল কোম্পানিগুলো তেলের জন্য যে অনেক কম দাম দিচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পাম্পে জ্বালানির দাম কমাচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অর্থাৎ ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম একটি রাজনৈতিক ইস্যু। কারণ দেশটির বিপুল মানুষের প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত যানবাহন।
যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত ও এর ফলে লাখো মার্কিন নাগরিকের জ্বালানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব নিয়ে ট্রাম্প সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
এদিকে, নভেম্বরে কংগ্রেস নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম ‘পাথরের মতো নিচে নেমে আসবে’ বলে ট্রাম্প বারবার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
তবে অর্থনীতিবিদরা এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তাদের ধারণা, তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে। এতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরুর বিষয়টি রয়েছে। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো বিষয়গুলো এখনো বিরোধের মধ্যে রয়েছে।
যুদ্ধের আগের তুলনায় এখনো পেট্রোলের দাম বেশি রয়েছে। তবে প্রাথমিক চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তা কমেছে।
মোটর ক্লাবগুলোর ফেডারেশন এএএ মোটর ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার প্রতি গ্যালন (৩.৮ লিটার) সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ছিল ৩ দশমিক ৯৩ ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে করদাতাদের অর্থের কোটি কোটি ডলার ব্যয় করায়, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ অনেক মার্কিন নাগরিক তার সমালোচনা করেছেন।
এসআর