যুক্তরাষ্ট্রের চারটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন নিয়ে পরিচালিত জরিপে ডেমোক্র্যাটদের ভালো অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মিশিগান ও টেক্সাসে দলটির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মেইন ও কানসাসে কোনো প্রার্থীই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে নেই। সিএনএনের এই জরিপের ফল সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের আশাবাদী করে তুলেছে।
জরিপে দেখা গেছে, মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদ ৪৯ শতাংশ সম্ভাব্য ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থন ৪২ শতাংশ। রাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের ভোটভিত্তি এল-সায়েদের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিপরীতে রিপাবলিকানদের একাংশের মধ্যে নির্বাচনে আগ্রহ কমে যাওয়ার লক্ষণ রয়েছে।
টেক্সাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থন ৪৩ শতাংশ। প্যাক্সটন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো ও এশীয় ভোটারদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন তালারিকোর অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
মেইনে রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স পেয়েছেন ৪৫ শতাংশ সমর্থন। তার ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনের সমর্থন ৪৯ শতাংশ। তবে জরিপে কাউকেই স্পষ্ট বিজয়ী অবস্থানে দেখা যাচ্ছে না। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেওয়া এই রাজ্যে কলিন্সের আসনটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কানসাসে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের সমর্থন ৪৯ শতাংশ, আর রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের সমর্থন ৪৫ শতাংশ। রিপাবলিকানদের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রাজ্যটিতে ভোটারদের একটি অংশ মার্শালকে অপছন্দ করলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকুক—এমন মনোভাব প্রকাশ করেছেন। ফলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএনএনের জরিপের ফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অসন্তোষ এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি সিনেট নির্বাচনের হিসাব বদলে দিতে পারে। চারটি রাজ্যের এই পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে জরিপের ফল নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত করে না।