পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে হামলায় ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
দ্য নিউ আরব সংবাদে এসেছে, ইরান ও আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ বেলুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র বিদ্রোহ চলছে। বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিত নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি নাগরিক এবং অস্থানীয় পাকিস্তানিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। সরকারি কর্মকর্তাদের অপহরণের ঘটনাও নতুন নয়।
গত শনিবার বেলুচিস্তানের একাধিক জেলায় সমন্বিত হামলার দায় স্বীকার করেছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। যুক্তরাষ্ট্র এই সংগঠনটিকে আগেই ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিকে অঞ্চলটির অন্যতম ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরো এক্স-এ দেওয়া বার্তায় জানায়,
‘বেলুচিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর আমরা পাকিস্তানের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি। বিএলএ এখনো একটি ঘোষিত বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন এবং এই নৃশংস হামলার দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।’
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বেলুচিস্তানে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে ২১৬ জন সশস্ত্র যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে, নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি ২২ জন নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসলামাবাদ এসব হামলার জন্য ভারতকে দায়ী করলেও নয়াদিল্লি তা অস্বীকার করেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আবদুল বাসিত বলেন, বেলুচিস্তানের বিদ্রোহ এখন যুদ্ধক্ষেত্রে অচলাবস্থায় রয়েছে। রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া এই অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সহিংসতার মাত্রা আরও চরম আকার নিতে পারে।
সাবেক সামরিক কর্মকর্তা আমির রিয়াজের মতে, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য প্রত্যাহারের পর বিপুল অস্ত্র বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর হাতে চলে গেছে, যার একটি অংশ বিএলএ-র কাছেও পৌঁছেছে। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে তারা স্লিপার সেল গড়ে তুলে সমন্বিত হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে বিদ্রোহ দমন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া অতিরিক্ত সামরিকীকরণ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।