যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। সেখানে পৌঁছে নিজেকে ব্রাজিলের বৈধ নেতা বলে দাবি করেছেন তিনি। বুধবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নির্বাচনে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছেন। তবে তার দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলা প্রায় ৪৫ লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন।
ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অমান্য করে গোপনে দেশ ছাড়েন ফ্লাভিও। অর্থ পাচারের তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই নির্দেশের বিষয়ে তিনি কোনো অপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পরিবারের সদস্যদের ভিসা দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইকেও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
ব্রাজিলের নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও সংবিধান মেনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনের ফল দেশটির আদালত, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্বনেতারাও স্বীকৃতি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফল বাতিলের জন্য বলসোনারোর আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এদিকে, বলসোনারোর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ও তার নির্বাচন নিয়ে তার দাবিকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও ব্রাসিলিয়ার সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লুলা অভিযোগ করেছেন, বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ওয়াশিংটন ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ফ্লাভিওর বাবা সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারো ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। পরে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে তাকে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফ্লাভিও অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি দেশ ছেড়ে পালাননি; বরং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তার জন্য ব্রাজিল ত্যাগ করেছেন।
সূত্র: রয়টার্স
আরএ