হোম > বিশ্ব > আমেরিকা

ফাঁকা করা হলো ফ্লোরিডার বিতর্কিত অ্যালিগেটর বন্দিশালা

আমার দেশ অনলাইন

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বিতর্কিত ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রেজ’ অভিবাসী আটক কেন্দ্র থেকে সব বন্দিকে সরিয়ে নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এর মাধ্যমে বিতর্কিত এই কেন্দ্রটি কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম শুরু হওয়ার কারণে সুরক্ষার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে গত বুধবার জানিয়েছে মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস)।

বিভাগের মুখপাত্র লরেন বিস বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘অবৈধ অভিবাসী বন্দিদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা তাদের অন্য কেন্দ্রে স্থানান্তর করেছি।’

তবে কতজন অভিবাসীকে সরানো হয়েছে এবং কোথায় পাঠানো হয়েছে, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে কি-না, তাও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়নি।

অবশ্য মে মাসে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ফ্লোরিডার ‘বিগ সাইপ্রেস ন্যাচারাল প্রিজার্ভ’-এর ভেতরে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

বিতর্কের মুখে ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রেজ’

২০২৫ সালের ১৯ জুন এই কেন্দ্রটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। সান ফ্রান্সিসকোর কুখ্যাত ‘অ্যালকাট্রেজ’ কারাগারের নামানুসারে এর নাম রাখা হয়। জলাভূমিবেষ্টিত এই দুর্গম কেন্দ্রটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যেন কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার বলেছিলেন, ‘কেউ যদি এখান থেকে পালায়, তবে বাইরে তার জন্য কুমির আর অজগর ছাড়া কিছুই অপেক্ষা করছে না। যাওয়ার বা লুকানোর কোনো জায়গা নেই।’

গত জুলাইয়ে এটি চালু হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিসকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন। ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে গণ-ডিপোর্টেশন নীতির ওপর জোর দিচ্ছেন।

তবে চালুর পর থেকেই পরিত্যক্ত একটি বিমানঘাঁটিতে নির্মিত এই কেন্দ্রটি বিতর্কের মুখে পড়ে। স্থানীয় মিকোসুকে ও সেমিনোল আদিবাসী নেতারা এর বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি, এটি এভারগ্লেডসে তাদের ঘরবাড়ি ও ধর্মীয় স্থানের ক্ষতি করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ফ্লোরিডার তীব্র গরম, ভারী বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড় থেকে সুরক্ষায় এই কেন্দ্রের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

মানবাধিকার লঙ্ঘন মামলা

এক বছরের কার্যকলাপে এই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বহু মামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বন্দিরা জানিয়েছেন, সেখানে তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হতো না। চিকিৎসা অবহেলা এবং খাবারে পোকা থাকার মতো অভিযোগও করেন তারা।

আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) আইনজীবী অ্যামি গডশাল বলেন, ‘এই নিষ্ঠুর কেন্দ্র থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, তবে এতে পূর্বের ক্ষতি মুছে যায় না।’

কেন্দ্রটি স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

৩ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতার এই কেন্দ্রটির অ্যালুমিনিয়াম-কাঠামো ক্যাটাগরি-২ মাত্রার হারিকেন সহ্য করতে পারে বলে দাবি করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের আটলান্টিক হারিকেন মৌসুমের প্রথম ঝড় ‘ট্রপিক্যাল স্টর্ম আর্থার’ মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়ার পরই সব বন্দিকে স্থানান্তরের এই ঘোষণা এল।

সূত্র: আল-জাজিরা

এএম

ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বড় প্রতিশ্রুতি ইরানকে

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেখতে চান মার্কিন আইন প্রণেতারা

বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাবের দাবি করলেন ট্রাম্প

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, কে বেশি সুবিধা পেল

ইরানে ফের বোমা হামলার হুমকি দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে ঘুষ দিয়েছিলেন ওবামা: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রে মহাসড়কে বিধ্বস্ত বিমান, নিহত ১

ভেনেজুয়েলায় তেল অনুসন্ধান চুক্তি করল রেপসল

ইরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তি গণমাধ্যমে পাঠ করে শোনানো হবে: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়াবহ সহিংসতা, অর্ধশতাধিক গ্রেপ্তার