যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত পেটেন্ট করা বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে এই উচ্চ শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পাবে।
দীর্ঘদিন ধরেই আমদানি করা ওষুধের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে আসছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প। অবশেষে বৃহস্পতিবার এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হতে পারে, কারণ এটি জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
অনেক বড় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, ফলে তারা এই শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও কোম্পানি একই পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক নীতির একটি বড় উদ্দেশ্য হলো কোম্পানিগুলোকে আলোচনার টেবিলে আনা। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক শন সুলিভান বলেন, সবকিছুই মূলত দরকষাকষির অংশ।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যেসব কোম্পানি ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হবে। আর যদি কোম্পানিগুলো ওষুধের মূল্য নির্ধারণে সরকারের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছায়, তাহলে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহারও হতে পারে।
ইতোমধ্যে কিছু চুক্তিতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো তাদের নির্দিষ্ট ওষুধ সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি যেমন মেডিকেইড এ বিদেশি বাজারের সমপর্যায়ের দামে বিক্রি করতে সম্মত হয়েছে।
গত বছর ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কম শুল্কের সুবিধা বহাল থাকবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি চুক্তিতে দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিকৃত ওষুধ শুল্কমুক্ত রাখা হয়েছে।
এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্য তাদের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস)-এর মাধ্যমে ওষুধের জন্য বেশি মূল্য দেবে, বিনিময়ে যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত ওষুধ তিন বছর শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। যুক্তরাজ্য সরকার একে তাদের রোগী, ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
নীতিটির বাস্তব প্রভাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রিচার্ড ফ্র্যাঙ্ক। তার মতে, কতগুলো কোম্পানি শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসবে এবং কত ওষুধ শুল্কের আওতায় পড়বে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো এই শুল্কের কারণে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যা তাদের উৎপাদন ব্যয় বাড়াতে পারে।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এই শুল্ক নীতির চাপেই ওষুধ কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারির পর এই শর্তসাপেক্ষ কম শুল্কের সুবিধা আর থাকবে না বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে একই সঙ্গে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর আরোপিত শুল্ক নীতিতেও কিছু পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যেসব পণ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ধাতু নেই, সেগুলোর ওপর ধাতব শুল্ক আরোপ করা হবে না।
এআরবি