ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চলাকালে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে কোনো প্রকার চুক্তিতে পৌঁছতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতে আশা জাগালেও দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার এই ম্যারাথন আলোচনা কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়া নিরাশার মধ্য দিয়েই শেষ হয়েছে। সেজন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরকে দোষারোপ করছে। তবে দুপক্ষই আবার আলোচনার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
গত শনিবার চির প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঐতিহাসিক এই আলোচনা শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখেছিল বিশ্ববাসী। কিন্তু বৈঠক শেষে গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি।
ভ্যান্স আরো জানান, তেহরানকে ‘চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব’ দেওয়ার পরই তিনি আলোচনার টেবিল ছেড়ে যাচ্ছেন। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটনের শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তেহরান।
দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো রকম সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন এক কর্মকর্তার
২১ ঘণ্টার ম্যারাথন নিস্ফল বৈঠক বরাতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানায়, অমীমাংসিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, আঞ্চলিক মিত্রদের নিয়ে বৃহত্তর শান্তি কাঠামো তৈরি এবং কোনো ধরনের টোল ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার স্থায়ী সমাধান। তবে এসব প্রস্তাবে রাজি হয়নি তেহরান।
গতকাল পাকিস্তান ত্যাগের আগে ইসলামাবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ইরানের কাছ থেকে একটি ‘মৌলিক প্রতিশ্রুতি’ দাবি করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এ আলোচনায় তেমন কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ শুরু করবেÑএমন কিছু বলেননি ভ্যান্স। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানকে প্রস্তাবটি বিবেচনার সময় দিচ্ছেÑইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা এখানে একটি খুবই সহজ প্রস্তাব রেখে যাচ্ছি। এটি আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক, ইরান তা গ্রহণ করে কি না। তবে মতপার্থক্য দূর করতে ভবিষ্যতে নতুন কোনো আলোচনার বিষয়ে কিছু বলেননি ভ্যান্স।
বিবিসি প্রতিবেদন করেছে, ভ্যান্সের পাকিস্তান ত্যাগের পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়া এখনো সম্ভব বলে মনে করেন ভ্যান্স। কিন্তু তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় একটি ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়ে তিনি ইসলামাবাদ ত্যাগ করেছেন।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা আরো জানান, ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠকের পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এ বিশ্বাস নিয়ে ফিরেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে দরকষাকষিতে ইরানের হাতে ঠিক কতোটা শক্তি আছে; সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভুল ধারণা’র য়েছে।
এদিকে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক’ দাবিকে দায়ী করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবির কারণে ইসলামাবাদ আলোচনা ভেস্তে গেছে।
আইআরআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি প্রতিনিধিদল দেশটির জনগণের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য টানা ২১ ঘণ্টা নিবিড়ভাবে আলোচনা করেছেন। তাদের প্রতিনিধিদলের বিভিন্ন উদ্যোগ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের অযৌক্তিক দাবিগুলো আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এতে আলোচনা থেমে যায়।
এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের আশা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকবে। ইসলামাবাদ আলোচনা শেষে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এক বিবৃতিতে বলেন, উভয় পক্ষের জন্যই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ধরে রাখা অত্যাবশ্যক। আগামী দিনগুলোতে দুপক্ষের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে লাগাতার হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান।
টানা ৩৯ দিনের যুদ্ধের পর গত বুধবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপর গত শনিবার ইসলামাবাদে দুদেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনা ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের পর দুপক্ষের মধ্যে হওয়া সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাকের কালিবাফ এতে নেতৃত্ব দেন।
সমঝোতা না হওয়া নিয়ে ইরানের বক্তব্য
ইসলামাবাদ আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর ও অযৌক্তিক’ অবস্থানকে দায়ী করেছে ইরান। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের কিছু দাবি এমন পর্যায়ের ছিল, যা শুধু আলোচনায় নয়; যুদ্ধের ময়দানেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অযৌক্তিক দাবি’ মূল বাধা ছিল। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য, ইরানি প্রতিনিধিদল টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চালিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু শর্ত দিয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য ছিল না।
ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিল থেকে সরে যাওয়ার জন্য কার্যত ‘অজুহাত’ খুঁজছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা ইরানকে এমন শর্ত দিয়েছে, যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমেও আদায় করতে পারেনি।
ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত বেশকিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো ছিল ‘অতিমাত্রায় উচ্চাভিলাষী’— যা তেহরান মেনে নেয়নি।
ইরানের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র
ইসলামাবাদে আলোচনা শেষ হওয়ার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেন, এ দফার আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ঐতিহাসিক এ আলোচনায় ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া কালিবাফ বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী দুটি যুদ্ধের (গাজায় ইসরাইলি হামলা এবং গত বছর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা) অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিপক্ষের ওপর কোনো আস্থা ছিল না। শেষ পর্যন্ত তারা ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
এদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই বলেন, এ আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর; যেখানে চারদিকে শুধু অবিশ্বাস আর সন্দেহ। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা আমাদের ছিল না। আর তেমনটা কেউ আশাও করেনি।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত ইরানের
ইসলামাদে বৈঠক শেষে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শেষে গতকাল এক্সে বেশ কয়েকটি পোস্ট করেন কালিবাফ। তিনি বলেন, আলোচনার এই পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে যে তারা আমাদের আস্থা অর্জন করতে পারবে কি না।
আলোচনার ব্যর্থ হওয়ার পরও বিজয়ের সুর বজায় রেখে কালিবাফ বলেন, আমরা সব সময় ইরানের জনগণের অধিকার রক্ষায় সামরিক অ্যাকশনের সমান্তরালে শক্তিশালী কূটনীতির ওপর জোর দিই। আমরা জাতীয় প্রতিরক্ষায় ৪০ দিনের অর্জনগুলি সুরক্ষিত করতে কাজ চালিয়ে যাওয়া এক মুহূর্তের জন্যও থামাব না।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি আমাদের বন্ধু ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের প্রচেষ্টার জন্যও কৃতজ্ঞ। তারা এই আলোচনার প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে সাহায্য করেছে। পাকিস্তানের জনগণের প্রতি আমার শুভেচ্ছা জানাই।
এদিকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই ভবিষ্যৎ আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া কখনো শেষ হওয়ার নয়। সেটা শান্তির সময় হোক, কিংবা যুদ্ধের সময়, সব সময়ের জন্যই।
পুতিনের সঙ্গে ইরানি প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় কোনোরকম সমঝোতা না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হওয়া অসম্ভব নয় বলে মনে করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপকালে পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। গতকাল সকালে ইসলামাবাদের আলোচনা শেষ হওয়ার পর পুতিনের সঙ্গে কথা বলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
পুতিনকে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান জানালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তি হওয়া অসম্ভব নয়।
হরমুজ প্রণালিতে টোল নেবে ইরান
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম বাধা ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি।
ইরানের সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, দেশটির পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হাজি বাবেয়ি হরমুজ প্রণালিকে তেহরানের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, প্রণালিটি ইরানের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য অবশ্যই ইরানি মুদ্রা ‘রিয়ালে’ টোল পরিশোধ করতে হবে।
দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেকোনো সামরিক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, সাধারণ বেসামরিক জাহাজগুলোকে সুনির্দিষ্ট শর্তে এখান দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবির বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর প্রকাশ করে।
হরমুজ অবরোধের ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানি প্রতিনিধিদলের মধ্যে বৈঠক শেষের কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন । তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ বা বের হওয়া যেকোনো জাহাজ অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করবে ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আমরা এমন অবস্থানে পৌঁছাব, একটি পর্যায়ে হরমুজ দিয়ে সবাইকে ঢুকতে দেওয়া হবে এবং বের হতে দেওয়া হবে। কিন্তু ইরান সেটি হতে দিচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, আমি আমাদের নৌবাহিনীকে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন প্রতিটি জাহাজকে খুঁজে বের করতে ও গতিরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি, যারা ইরানকে টোল দিয়েছে। যারা বেআইনিভাবে টোল দেবে, গভীর সমুদ্রে তাদের কোনো নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হবে না।
ট্রাম্প জানান, এ অবরোধ ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মতোই হবে। তবে এর পরিধি হবে অনেক বড় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এর ফলে আরো বেশি তেলবাহী ট্যাংকার তেল কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইরানকে একদিনেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি
ইসলামাবাদে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি অবরোধের পাশাপাশি ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। গতকাল ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের জন্য ওয়াশিংটন পুরোপুরি প্রস্তুত। মার্কিন বাহিনী ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে ‘শেষ করে দেবে’।
এছাড়া হরমুজ প্রণালি অবরোধের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না; তা ইরান নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তিনি ঘোষণা দেন, হয় সব জাহাজ সেখানে নিরাপদ যাতায়াতের সুযোগ পাবে, নয়তো একটিও পাবে না; এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান তাদের পছন্দের দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করে টাকা কামাবে—আমরা সেটা হতে দেব না।
একই সঙ্গে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি একদিনেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি...আমি তাদের পুরো জ্বালানি খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ সব স্থাপনা ধ্বংস করে দিতে পারি, যা তাদের জন্য হবে বিশাল এক ধাক্কা।
ইরানিদের ওপর ট্রাম্পের হুমকির প্রভাব নেই
ট্রাম্পের হুমকি ‘ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় সদিচ্ছা প্রদর্শনে ইরানের বেশকিছু ভালো উদ্যোগ ছিল। এর ফলে অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন কালিবাফ।
তিনি আরো বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি ‘ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না’।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করে দিয়ে কালিবাফ বলেন, আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব এবং আপনি যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, আমরাও যুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করব।