বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে মিলিত হতে যাচ্ছেন। দুই পরাশক্তির মধ্যকার পরবর্তী ধাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্ধারণে এ বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ইরান যুদ্ধ, বাণিজ্য, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। এর আগে গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের শেষ দেখা হয়েছিল, যেখানে দুই দেশ একটি বাণিজ্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
বর্তমানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ব্যস্ত সময় পার করছে। ইরান চীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হওয়ায় এই যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে, শ্লথ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন শি জিনপিং।
আলোচনায় যা থাকছে
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘ফাইভ বিস’-এর (বোয়িং বিমান, গরুর মাংস, সয়াবিন এবং ইনভেস্টমেন্ট ও ট্রেড বোর্ড গঠন) ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, চীন ‘থ্রি টিস’ (শুল্ক বা ট্যারিফ, প্রযুক্তি ও তাইওয়ান) নিয়ে আলোচনার পক্ষপাতী। বেইজিং গত বছরের বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিলের দাবি জানাতে পারে। এছাড়া ট্রাম্প হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থি অ্যাক্টিভিস্ট জিমি লাইয়ের কারাদণ্ডের বিষয়টি উত্থাপন করতে পারেন বলে জানা গেছে।
ফলাফল নিয়ে প্রত্যাশা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক থেকে বড় কোনো অর্থনৈতিক চুক্তি বা গভীর সংকট সমাধানের সম্ভাবনা কম। তবে বিনিয়োগসংক্রান্ত কিছু ছোট চুক্তি এবং গত বছরের বাণিজ্যবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর মতো ফলাফল আসতে পারে।
সাংহাইয়ের ফুদান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ঝাও মিংহাও মনে করেন, এ বৈঠক বড় কোনো সাফল্যের চেয়ে বরং পরবর্তী যোগাযোগের একটি সূচনাবিন্দু হিসেবে কাজ করবে।
সংকট ও চ্যালেঞ্জ
ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই দেশের মতবিরোধ আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করতে পারে। গত মাসে শি জিনপিং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সমালোচনা করেছিলেন। চীন ইরানকে আলোচনার জন্য উৎসাহিত করলেও একে ওয়াশিংটনের সমস্যা হিসেবে দেখছে।
এদিকে, চীন ইরানের তেলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজস্ব রেগুলেশন জারি করায় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক লড়াইয়ের তীব্রতা আরও বেড়েছে।
সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস
এএম