পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে বড় সাফল্য অর্জন করেছে চীনের একটি বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ ল্যান্ডস্পেস। বুধবার প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো বাণিজ্যিক রকেটের প্রথম ধাপ উৎক্ষেপণের পর স্থলভাগে সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই ঘটনাকে দেশটির মহাকাশ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরেছে।
ল্যান্ডস্পেসের তৈরি ঝুকু-৩ (Zhuque-3) রকেটটি স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে উত্তর-পশ্চিম চীনের ডংফেং কমার্শিয়াল স্পেস ইনোভেশন পাইলট জোন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর রকেটটির প্রথম ধাপ নির্ধারিত অবতরণ এলাকায় ফিরে গিয়ে সফলভাবে মাটিতে অবতরণ করে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, রকেটের প্রথম ধাপটি মরুভূমির নির্ধারিত অবতরণস্থলের দিকে ধীরে ধীরে নেমে আসে। অবতরণের ঠিক আগে এর ভাঁজ করা পা খুলে যায় এবং রকেটটি নিয়ন্ত্রিতভাবে মাটিতে অবতরণ করে।
এদিকে রকেটটির দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে হংহু-০৩ স্যাটেলাইটকে নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠিয়েছে। পুরো অভিযানকে ‘সম্পূর্ণ সফল’ বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথম
মহাকাশ বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ল্যান্ডস্পেসই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যারা কক্ষপথে উৎক্ষেপণযোগ্য শ্রেণির রকেটের বুস্টার নিজস্ব অবতরণ পা ব্যবহার করে স্থলভাগে সফলভাবে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্পদার্থবিদ অধ্যাপক রিচার্ড ডি গ্রিজ এই ঘটনাকে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতের জন্য বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর মতে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চীন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি—দুই খাতের মাধ্যমে রকেট পুনরুদ্ধারের দুটি পৃথক প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছে। এর আগে জুলাইয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে তৈরি লং মার্চ-১০বি রকেটের প্রথম ধাপ সমুদ্রভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
ডি গ্রিজের মতে, রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি মহাকাশ খাতের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চীনকে ভবিষ্যতে কম খরচে আরও ঘন ঘন রকেট উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডল বা মেগা-কনস্টেলেশন স্থাপনের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটে বাড়ছে চীনের বিনিয়োগ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘মহাকাশ স্বপ্ন’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশ কর্মসূচিতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে। এর পাশাপাশি বাণিজ্যিক মহাকাশ খাতকেও প্রযুক্তিগতভাবে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, ঝুকু-৩ রকেটটি চীনের জাতীয় মহাকাশ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে। তুলনামূলক কম খরচে বেশি সক্ষমতা নিয়ে এবং ঘন ঘন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের লক্ষ্যেই রকেটটি তৈরি করা হয়েছে।
রকেটের প্রথম ধাপ সফলভাবে ফিরিয়ে এনে পুনরায় ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন উৎক্ষেপণের খরচ কমাতে পারে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে চীনের বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত ভবিষ্যতে আরও দ্রুত সম্প্রসারণের সুযোগ পেতে পারে।
সূত্র: এএফপি
এসআর